করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আরোপ করা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। গত রবিবার রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সেনা সদর দফতরের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে ভাষণ দেন তিনি। বিক্ষোভরতরা ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা করছে জানিয়ে তাদের দেশেপ্রেমিক আখ্যা দেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ওই সমাবেশে যোগ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাস আক্রান্তের দেশ ব্রাজিল। গত রবিবার পর্যন্ত সেখানে ৩৮ হাজার আক্রান্ত মানুষ শনাক্ত হয়েছে আর মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার চারশোরও বেশি জনের। দেশটির কয়েকটি রাজ্যের গভর্নর লকডাউন আরোপ করেছে। তবে এই পদক্ষেপকে স্বৈরতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো।
রবিবার সেনা সদর দফতরের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভে লকডাউন অবসানের দাবির পাশাপাশি ব্রাজিলের পার্লামেন্ট ও সুপ্রিম কোর্টও বন্ধের দাবি তোলা হয়। এছাড়া অনেকেই করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার দাবি তোলে। সমাবেশে উপস্থিত থাকলেও এনিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো।
ব্রাজিলের পার্লামেন্ট নিম্নকক্ষ চেম্বার অব ডেপুটিস এর স্পিকার ও বলসোনারোর সমালোচক রদ্রিগো মাইয়া এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘পুরো বিশ্ব করোনাভাইরাসে বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু ব্রাজিলে আমরা করোনাভাইরাস এবং স্বৈরতান্ত্রিকতার ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছি।’
সম্প্রতি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সঙ্গে দেশটির কংগ্রেস ও সুপ্রিম কোর্টের মধ্যকার সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বলসোনারোর দাবি এগুলো তার ক্ষমতা খর্ব এবং উৎখাত করতে চাইছে।
লকডাউন পদক্ষেপ সমর্থন করায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী লুইজ হেনরিক মানদেত্তাকে গত সপ্তাহে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট বলসোনারো। প্রেসিডেন্টের যুক্তি হচ্ছে লকডাউনের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।








