পোর্টল্যান্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর বেআইনিভাবে ধরপাকড় চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিক্ষোভকারীদের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের উপর অযথা শক্তি প্রয়োগজনিত পদক্ষেপ থেকে সরে আসার জন্য মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বর্ণ-বৈষম্য ও পুলিশি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রায় দুই মাস ধরে বিক্ষোভ চলছে। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিকাগোসহ দেশটির বড় বড় শহর ও অঙ্গরাজ্যগুলোতে ফেডারেল পুলিশ ও সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তার দৃষ্টিতে বিক্ষোভকারীরা 'সন্ত্রাসী' ও ‘লুটেরা’! বিক্ষুব্ধরা দাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ও অন্য অনেক ঐতিহাসিক ব্যক্তির মূর্তি ভাঙ্গতে থাকায় ট্রাম্প তাদেরকে দশ বছরের কারাদণ্ডের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি পোর্টল্যান্ড শহরের বিক্ষোভ দমনের জন্য সেখানে ফেডারেল বাহিনী পাঠানোর আদেশ দেন।
জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক মুখপাত্র লিজ থ্রোসেল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের শক্তি প্রয়োগের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘মানুষ যেন শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করতে পারে, তাদের উপর যেন অহেতুক, অতিরিক্ত মাত্রায় ও নির্বিচারে শক্তি প্রয়োগ না করা হয় তা নিশ্চিত করা জরুরি।’
অনলাইনে প্রকাশিত বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, সাদা পোশাকের কর্মকর্তারা শক্তি প্রয়োগ করছেন এবং গাড়িতে করে গ্রেফতারকৃত বিক্ষোভকারীদেরকে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই গাড়িগুলো কাদের সেটাও লেখা নেই। মানবাধিকার আইনজীবীরা মনে করছেন, গ্রেফতারের এ ধরনের কৌশলগুলো বিক্ষোভকারীদের মুক্তভাবে মত প্রকাশের অধিকার লঙ্ঘন করে।
লিজ থ্রোসেল এ ব্যাপারে বলেন, ‘মোতায়েন হওয়া কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে যেন যথাযথভাবে ও স্পষ্ট করে শনাক্ত করা যায় তা কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনমাফিক, যৌক্তিক কারণে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই কেবল তাদের উপর যেন শক্তি প্রয়োগ করা হয়। কোনও অঘটন ঘটলে তার জন্য কে দায়ী তা চিহ্নিত করতে পারার সুযোগ রাখাটা জরুরি।








