যত বেশি মানুষকে সম্ভব হত্যা করতে চেয়েছিল ট্যারান্ট

বিদেশ ডেস্ক
২৪ আগস্ট ২০২০, ১২:১১আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২০, ১৯:০৪
image

নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুই মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫১ জনকে হত্যার ঘটনায় অপরাধ স্বীকার করা ব্রেন্টন ট্যারান্ট কয়েক বছরের ‘নিখুঁত পরিকল্পনার’ পর তা বাস্তবায়ন করে। তৃতীয় একটি মসজিদেও হামলার পরিকল্পনা ছিল তার। মসজিদ পুড়িয়ে যত বেশি সংখ্যক মানুষকে সম্ভব, হত্যা করতে চেয়েছিল সে। সোমবার তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা শুরুর প্রথম দিন (সোমবার) এ কথা জানিয়েছেন একজন প্রসিকিউটর। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রায়ে আজীবন কারাবাসের শাস্তি পেতে যাচ্ছে ট্যারান্ট।

যত বেশি মানুষকে সম্ভব হত্যা করতে চেয়েছিল ট্যারান্ট

২০১৯ সালের মার্চে এই শহরেরই দুটি মসজিদে নৃশংস ওই হামলাটি চালিয়েছিল অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। তার বিরুদ্ধে আনা ৫১টি খুন, ৪০টি খুনের চেষ্টা ও সন্ত্রাসবাদের একটি অভিযোগের দায় স্বীকার করেছে সে। বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকালে ক্রাইস্টচার্চে এ মামলার সাজা ঘোষণার শুনানি শুরু হয়েছে।

কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের কারণে আদালতের মূল কক্ষ প্রায় জনশূন্য ছিল। তবে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে দূর থেকে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন হামালা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ও নিহতদের স্বজনরা। ক্রাইস্টচার্চের আদালত কমপ্লেক্সের অতিরিক্ত সাতটি কক্ষে তাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যাদের অনেকেরই আগামী তিন দিন নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বারনাবি হউস আদালতকে জানান, বন্দুকধারী কয়েক বছর আগে থেকেই তার পরিকল্পনা তৈরি করতে শুরু করেছিলেন এবং তার উদ্দেশ্য ছিল ‘হামলা চালিয়ে যত বেশি সম্ভব লোককে হত্যা করা’। তিনি আরও জানান, হামলাকারী নিউ জিল্যান্ডের মসজিদগুলোর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে, মসজিদগুলোর নকশা, অবস্থান ও অন্যান্য বিস্তারিত নিয়ে অনুসন্ধান চালায়। সবচেয়ে বেশি লোক জড়ো হয় এমন এক সময়ে হামলা চালানোর লক্ষ্য নিয়ে এসব করেছিল সে।  

হামলার কয়েক মাস আগে ক্রাইস্টচার্চে গিয়ে একটি ড্রোন উড়িয়ে সে তার প্রথম লক্ষ্য আল নূর মসজিদ পর্যবেক্ষণ করে। আল নূর মসজিদ ও লিনউড ইসলামিক সেন্টারের পাশাপাশি অ্যাশবার্টন মসজিদেও হামলা হামলার পরিকল্পনা ছিল তার।

আদালতে বলা হয়েছে, লিনউড ইসলামিক সেন্টারের দিকে গাড়ি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় সে গাড়ি থামিয়ে আল নূর মসজিদ থেকে পালাতে সক্ষম হওয়া আফ্রিকান অভিবাসীদের লক্ষ্য করে গুলি করে। গ্রেফতারের পর ট্যারেন্ট পুলিশকে জানিয়েছিল, তার পরিকল্পনা ছিল হামলার পর মসজিদগুলো পুড়িয়ে দেওয়া।

এর আগে ট্যারান্ট তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও পরে দোষ স্বীকার করে নেয়। আদালতে সে কোনও আইনজীবী নিয়োগ করেনি। নিজেই নিজের প্রতিনিধিত্ব করছে।

হামলার ঘটনা সরাসরি অনলাইনে সম্প্রচার করেছিল ট্যারান্ট। সে ঘটনায় পুরো বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল। ঘটনার জেরে নিউ জিল্যান্ড দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের বন্দুক আইন পরিবর্তন করে ফেলে।   

বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনও প্যারোল ছাড়াই ২৯ বছর বয়সী ট্যারান্ট আজীবন কারাবাসের শাস্তি পাবেন। নিউ জিল্যান্ডে এ ধরনের সাজার প্রথম ঘটনা এটি। এর আগে দেশটিতে কেউ এত বড় সাজার মুখোমুখি হয়নি।

/বিএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া
বিশ্বের সবচেয়ে ‘অপছন্দনীয়’ দেশ কোনগুলো
৩ হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে অফিসে গিয়েও সুখী তরুণী
সর্বশেষ খবর
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের