যুক্তরাষ্ট্রের গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে এখনও উত্তাপ কাটেনি দেশটির রাজনীতিতে। যেকোনোভাবে হোয়াইট হাউজে নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরমধ্যই শনিবার রিপাবলিকান শিবিরের প্রভাবশালী নেতা টেড ক্রুজসহ ১১ জন সিনেটর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছেন। এক বিবৃতিতে গত নির্বাচনের ফল প্রত্যয়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তারা।
১১ সিনেটরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ইলেকটোরাল ভোট গণনায় আপত্তি তুলবেন তারা। নির্বাচনের ওপর ১০ দিনের নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা ফল মেনে নেবেন না।
কংগ্রেস একটি ইলেকটোরাল কমিশন গঠন করে তদন্তের কথাও বলেছেন তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রিপাবলিকান দলীয় ১১ সিনেটরের এমন অবস্থানের মধ্য দিয়ে মার্কিন রাজনীতির সংকট আরও ঘনীভূত হলো বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও তাদের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
নিজ দলীয় সিনেটরদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইটারে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেছেন, সত্য জানার পর তারা এগিয়ে এসেছেন। আরও সত্য বেরিয়ে আসছে। দেশ তাদের মনে রাখবে!
বিবৃতি ১১ জনের পক্ষ থেকে এলেও প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্প সমর্থক আরও শতাধিক আইনপ্রণেতা ৬ জানুয়ারি ইলেকটোরাল ভোটের ফল নিয়ে আপত্তি তুলবেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যদিও এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়া প্রায় অসম্ভব। তবে রিপাবলিকান সমর্থকদের এমন উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সিনেটর এমি ক্লবুচার। তাদের অগণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
নির্বাচন সংক্রান্ত কয়েক ডজন মামলায় হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্পের নির্বাচনে কারচুপির আর কোনও দাবি করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা চালর্স শুমার।
কানেক্টিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্টাল রিপাবলিকান সিনেটরদের বিবৃতিকে ‘আন-আমেরিকান’ আচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের অবস্থানকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মিনেসোটার সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার বলেন, ২০ জানুয়ারি বাইডেনের অভিষেক হবে। কোনও প্রচার-প্রচারণায় এটি বদলে যাবে না।









