X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

কোভিডকে ‘এনডেমিক’ ঘোষণা করলে কী হবে?

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:৫৮

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে মহামারি ঘোষণার প্রায় দুই বছর হতে চললো। অথচ এখনও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেকর্ড সংখ্যক নতুন আক্রান্ত শনাক্তের ঘোষণা আসছে। উচ্চ সংক্রমণশীল ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় ওমিক্রনে রোগের ভয়াবহতা, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু কমে যাওয়ায় করোনার সঙ্গে বসবাসের পরিকল্পনার কথা ভাবতে শুরু করেছে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ। 

স্পেনসহ ইউরোপীয় কয়েকটি দেশ কোভিড-১৯কে ‘এনডেমিক’ রোগ হিসেবে বিবেচনা শুরু করার পরিকল্পনার কথা বললেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলছে, মহামারি শেষ হয়ে গেছে এমনটা বলার কাছাকাছি সময় এখনও আসেনি।

এমন পরিস্থিতিতে ‘এনডেমিক’ অর্থ কী আর এটি ঘোষণা করলে ভবিষ্যতে কেমন হবে করোনা পরিস্থিতি তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি। এতে তুলে ধরা হয়েছে, কারা এনডেমিক ঘোষণা করবে, ঘোষণা করলে কী হবে এবং সংকটের অবসান হবে কিনা।

পশ্চিমের কয়েকটি দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যু কমেছে

প্যানডেমিক বা মহামারি থেকে এনডেমিক কি বিপরীত?

কোনও রোগ এনডেমিক তখন হয় যখন তা নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়মিত হতে থাকে। আর প্যানডেমিক বা মহামারি হলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া কোনও রোগ, যা অসুস্থতার নজিরবিহীন ঢেউ তৈরি করে।

ইউরোপের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ক্যাথেরিন স্মলউড জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, ‘করোনাভাইরাসকে এনডেমিক রোগ হিসেবে পুনর্ব্যাখ্যা করার এখনও অনেক বাকি।

তিনি বলেন, ‘এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে আর এই ভাইরাস দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।’

বহু দেশেই কোনও রোগকে এনডেমিক ঘোষণার অর্থ হবে তা মোকাবিলার সামগ্রী কমে যাওয়া। কারণ, সেসব দেশ আর এই রোগকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বলে বিবেচনা করবে না।

ধনী দেশগুলোর করোনা মোকাবিলার সক্ষমতা বেশি

এনডেমিক ঘোষণার সিদ্ধান্ত কে নেবে?

বেশিরভাগ ধনী দেশ সম্ভবত নিজেদের ভূখণ্ডে ভাইরাসটির বিস্তার এবং সম্ভাব্য নতুন সংক্রমিতের দ্বারা প্রাদুর্ভাব ঘটবে কিনা তা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। করোনার ভ্যাকসিন, ওষুধ এবং অন্য পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ধনী দেশগুলোর বেশি হওয়ায় তারা অন্য দেশের তুলনায় অনেক আগেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে।

ডব্লিউএইচও কৌশলগতভাবে মহামারি ঘোষণা করে না। সংস্থাটির সর্বোচ্চ সতর্কতার মাত্রা হলো ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্যজনিত জরুরি পরিস্থিতি’ আর ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে করোনাভাইরাসকে তা ঘোষণা করা হয়েছে। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থাটির একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি রয়েছে, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর বৈঠক করে পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করে।

ধারণা করা হচ্ছে, মহামারি তখনই শেষ হবে যখন ডব্লিউএইচও’র বিশেষজ্ঞরা কোভিড-১৯-কে আর ‘বৈশ্বিক জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করবেন না। তবে এই ঘোষণার শর্তগুলো সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা নেই।

ডব্লিউএইচও’র জরুরি পরিচালক ড. মাইক রায়ান বলেন, ‘এটা বস্তুগত বিবেচনার বিষয়। কারণ, এটা কেবল আক্রান্তের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। এটি তীব্রতা এবং প্রভাবের ওপর নির্ভর করে।’ আবার অনেকেই মনে করেন, কোভিড-১৯-কে এনডেমিক ঘোষণার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের চেয়ে রাজনৈতিক প্রশ্নই বেশি জড়িত। আর এগুলো নির্ভর করবে কোনও দেশে কত আক্রান্ত ও মৃত্যু সেই দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং তাদের নাগরিকেরা সহ্য করতে পারবেন।

ধনী দেশে টিকা, ওষুধ সরবরাহ বেশি

স্পেন কী প্রস্তাব করছে?

স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ গত সপ্তাহে বলেছেন, করোনায় মৃত্যুর হার কমে যাওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে, রোগটিকে এনডেমিক হিসেবে বিবেচনা করার সময় এসে গেছে।

এর অর্থ হলো, স্প্যানিশ কর্মকর্তাদের করোনার প্রত্যেক সংক্রমণের তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে না। উপসর্গ থাকা মানুষদের পরীক্ষা করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। কিন্তু অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হবে।

এই প্রস্তাবটি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

গত অক্টোবরে ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল-এর পক্ষ থেকে একটি সুপারিশ জারি করা হয়। এতে মহামারির চরম অবস্থা শেষ হয়ে গেলে কীভাবে নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে তা বলা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, করোনাভাইরাসকে ফ্লুর মতো রোগ বিবেচনায় নিয়ে নজরদারি চালাতে হবে। উপসর্গ থাকা সব মানুষকে পরীক্ষার বদলে প্রতিনিধিত্বমূলক নমুনা পরীক্ষা করা যেতে পারে। 

এনডেমিক ঘোষণায় দরিদ্র দেশগুলোতে কোভিড মোকাবিলার সামগ্রী সরবরাহ কমতে পারে

এনডেমিক অর্থ কি সংকটের অবসান?

না। এইচআইভি ও যক্ষ্মার মতো অনেক রোগকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এনডেমিক বিবেচনা করা হয়। এই রোগ দুটি প্রতিবছর হাজারো মানুষের মৃত্যু ঘটাচ্ছে। যেমন, ম্যালেরিয়া সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলের অনেক স্থানে এনডেমিক বিবেচনা করা হয়। কিন্তু প্রতি বছর রোগটিতে আক্রান্ত হচ্ছেন ২ কোটির বেশি মানুষ, মৃত্যু হয় প্রায় ৬ লাখের।

ডব্লিউএইচও’র রায়ান বলেন, এনডেমিক ভালো কিছু নয়। এনডেমিক অর্থ হলো এই রোগটি আজীবন থেকে যাবে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলছেন, কোভিড-১৯ মৌসুমি ভাইরাস ফ্লু’র মতো হয়ে গেলেও অনেকের জন্য তা প্রাণঘাতী হতে পারে।

ডিউক ইউনিভার্সিটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. ক্রিস উডস বলেন, ‘এমনকি মহামারির অবসান হলেও কোভিড আমাদের মাঝে থাকবে।’

তার মতে, পার্থক্য হলো এর কারণে আর নির্বিচারে মানুষের মৃত্যু হবে না। এটি নিয়মিত রোগে পরিণত হবে এবং আমাদের টিকা প্রাপ্তির অনেক বেশি সুযোগ থাকবে। সবার জন্য চিকিৎসা ও পরীক্ষার সুযোগও বাড়বে।

/এএ/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
এসডিজি অর্জনে ‘মাই কনস্টিটিউয়েন্সি’ অ্যাপ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: স্পিকার
এসডিজি অর্জনে ‘মাই কনস্টিটিউয়েন্সি’ অ্যাপ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: স্পিকার
কারাগারে বন্দির সঙ্গে দেখা করতে এসে আটক নারী
কারাগারে বন্দির সঙ্গে দেখা করতে এসে আটক নারী
বঙ্গবন্ধু কেমিক্যাল মেট্রোলজি অলিম্পিয়াডে দেশসেরা শাবির রিফাত
বঙ্গবন্ধু কেমিক্যাল মেট্রোলজি অলিম্পিয়াডে দেশসেরা শাবির রিফাত
পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার নির্দেশ হাইকোর্টের
পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার নির্দেশ হাইকোর্টের
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত