২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় পাকিস্তানে বিচারাধীন জাকিউর রহমান লাখভি এবং আরও ৬ সন্দেহভাজনের কণ্ঠস্বরের নমুনা চেয়ে ভারত সরকারের করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। সোমবার আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়। বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া খবরটি নিশ্চিত করেছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে থাকা নমুনার সঙ্গে গ্রেফতার হওয়াদের কণ্ঠস্বরের নমুনা মিলিয়ে দেখতে ভারত সরকারের তরফে আবেদন জানানো হয়। পরে সে নমুনা মুম্বাই হামলার মামলায় আটক ৭ সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে দুর্নীতিবিরোধী আদালতে হাজির করার পরিকল্পনা ছিল। ভারত সরকারের পিটিশনে বলা হয়, ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে হামলার সময় সন্ত্রাসী ও সন্দেহভাজনদের মধ্যকার কথোপকথনের রেকর্ড ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে আছে। ওই কথোপকথনে সন্দেহভাজনরা হামলাকারীদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন। মামলাটির তদন্ত শেষ করতে সন্দেহভাজনদের কণ্ঠস্বরের নমুনা খুব জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।
২০১১ সাল ও ২০১৫ সালেও পাকিস্তানের ট্রায়াল কোর্টে লাখভির কণ্ঠস্বরের নমুনা চেয়ে করা আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছিল। অভিযুক্তের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়ার কোনও আইনের অস্তিত্ব নেই উল্লেখ করে সে আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল।
২০০৮ সালে মুম্বাইয়ের হোটেল, রেল স্টেশন, হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। ওই হামলায় প্রাণ হারান ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ। পাকিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠী লস্কর-ই-তাইবার অপারেশনস কমান্ডার জাকিউর রহমান লাখভিকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ঘোষণা করে ভারত। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে লাখভিসহ লস্কর ই তাইবার ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর ২০১৫ সালের ১০ এপ্রিল আদিয়ালা জেল থেকে ছাড়া পান লাখভি। জননিরাপত্তা নিরাপত্তা আইনে তাকে আটক করতে সরকারের আদেশকে নাকচ করে তাকে জামিন দেন লাহোরের আদালত। তবে এখনও আদিয়ালা জেলে আটক রয়েছেন বাকি ছয়জন। ২০০৯ সাল থেকে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী আদালতে বিচার কার্যক্রম চলছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
/এফইউ/বিএ/








