২০১৫ সালের মার্চের এক শুক্রবার। ঘড়িতে রাত ১০টা। যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় রাস্তা ধরে নৈশভোজের জন্য নিজের গাড়ি চালিয়ে বাবার বাড়িতে যাচ্ছিলেন জেনিফার গ্রোসব্যাক (২৫) নামের এক নারী। তবে পথে মোড় নিতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন জেনিফার। সেতুর কংক্রিটের প্রাচীরে ধাক্কা খেয়ে গাড়িটি ছিটকে পড়ে ফর্ক নদীর হিমশীতল পানিতে। এতে গাড়ির সামনের অংশ পানিতে ডুবে যায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন চালকের আসনে থাকা জেনিফার। তবে প্রাণে বেঁচে যায় পেছনের আসনে থাকা জেনিফারের ১৮ মাসের কন্যা লিলি। উদ্ধারের আগে শিশুটি ১৪ ঘণ্টা ওই গাড়িতে অবস্থান করছিল। শিশুটিকে ‘অবাক শিশু’ (মিরাকল বেবি) বলছেন অনেকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা ঘটনাস্থলের কাছে একটি শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন। কিন্তু আশপাশে তাকিয়ে কিছু দেখতে পাননি। ফলে এ দুর্ঘটনার কথা অজানা থেকে যায়। পরদিন শনিবার দুপুরের দিকে স্থানীয় এক জেলে উটাহ নদীতে ডুবন্ত গাড়িটি খুঁজে পান। গাড়ির ভাঙা জানালা দিয়ে তিনি একটি হাত দেখতে পান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উদ্ধারকারীরা। চালকের আসনে মা জেনিফারকে মৃত অবস্থায় পান। তবে গাড়ির পেছনের আসন থেকে জীবিত উদ্ধার করেন শিশুটিকে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা লে. কোরি শ্লেমেকার বলেন, ‘শিশুটি গাড়ির পেছনের আসনে ছিল। সম্ভবত ওই আসনটিতে পানি ঢুকতে পারেনি। তবে গাড়িতে কতখানি পানি ঢুকেছে তা আমি বলতে পারব না।’
তবে তিনি জানান, উটাহ নদীর পানি এতটাই ঠাণ্ডা ছিল যে, উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা খুব বেশি সময় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি।
উদ্ধারের পর লিলি নামের ওই ছোট্ট শিশুটিকে সল্ট লেক সিটির প্রাইমারি চিলড্রেন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে শিশুটি। সূত্র: ডেইলি মেইল।
/এমপি/বিএ/








