ভিনসেন্ট ভ্যান গগ কিংবা ক্লোদ মনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম থেকে শুরু করে আধুনিক পপ গান, সূর্যমুখীর মুগ্ধতা ছুঁয়ে গেছে শিল্পকলা ও বিনোদন জগতের সব মাধ্যমকেই। তবে শুধু চিত্রশিল্পী বা সংগীতশিল্পীরাই নন, এই উজ্জ্বল হলুদ রঙের ফুলটি নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের অন্ত নেই। বিশেষ করে সূর্যের আলো অনুসরণের ধর্ম বা হেলিওট্রোপিজম নিয়ে গবেষণা চলছে বহু বছর ধরে। কিন্তু বহুল প্রচলিত একটি ধারণা হলো, সূর্যমুখী ফুল নাকি সব সময়ই সূর্যের গতিপথ অনুসরণ করে। তবে বিজ্ঞান বলছে, উত্তরটি আসলে ‘না’।
জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে সূর্যালোক অনুসরণের এই মিথ ছড়িয়ে পড়লেও তা শতভাগ সঠিক নয়। মূলত কেবল কচি বা কড়ি অবস্থায় সূর্যমুখী ফুল সারা দিন সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। ফুল যখন পূর্ণতা পায় বা পরিণত হয়, তখন তা আর সূর্যের গতিপথ অনুসরণ করে না; বরং স্থায়ীভাবে পূর্ব দিকে মুখ করে থমকে দাঁড়ায়।
তরুণ সূর্যমুখীর এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের পেছনে ভূমিকা রাখে তাদের ২৪ ঘণ্টার একটি অভ্যন্তরীণ ঘড়ি, যা মানবদেহের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা সারকাডিয়ান রিদম-এর মতো কাজ করে। কচি ফুলগুলো ভোরে সূর্যোদয়ের সময় পূর্ব দিকে মুখ করে থাকে। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়লে ফুলগুলোও ধীরে ধীরে পশ্চিমে ঘোরে। রাতে ফুলগুলোর কাণ্ডের পশ্চিম পাশ দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ফলে ভোরের সূর্যকে স্বাগত জানাতে তা আবার পূর্বে ফিরে আসে। তবে ফুল পরিপক্ব হলে কাণ্ডের সামগ্রিক বৃদ্ধি কমে যায় এবং তা সকালে সূর্যের আলোয় বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়, ফলে একপর্যায়ে পশ্চিমে ঘোরার প্রক্রিয়াটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, কৃত্রিম আলোতেও ২৫ ঘণ্টার বদলে ২৪ ঘণ্টার চক্রে সূর্যমুখী একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। গবেষণা চলাকালীন গাছে সূর্যালোক অনুসরণ বন্ধ করতে বাঁধন দেওয়া হলে পাতাসংখ্যা ও গাছের শক্তি কমে যেতে দেখা গেছে।
কিন্তু পরিণত ফুল কেন কেবল পূর্ব দিকেই মুখ করে থাকে? গবেষণায় দেখা গেছে, মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী পতঙ্গ আকৃষ্ট করতে এই অবস্থান সাহায্য করে। পূর্বমুখী ফুল ভোরের আলোয় দ্রুত উত্তপ্ত হয় এবং পতঙ্গরা তুলনামূলক উষ্ণ ফুল বেশি পছন্দ করে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সূর্যমুখীর এই বৈশিষ্ট্য উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া বুঝতে ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: রিপলিস
বিশ্বমঞ্চে স্থান করে নিচ্ছে ইয়ুননানের কিন্নর-নৃত্য