মানুস দ্বীপে অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কিত শরণার্থী আটক কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে পাপুয়া নিউ গিনি। এ ধরনের আটক কেন্দ্রকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রুল জারির পর বুধবার পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী পিটার ও’নিল আটককেন্দ্রটি বন্ধের ঘোষণা দেন। তবে আটককৃতদের মধ্যে যারা প্রকৃত শরণার্থী বলে স্বীকৃতি পাবেন তারা চাইলে পাপুয়া নিউ গিনিতে থাকতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে মানুস দ্বীপে সাড়ে ৮শ মানুষ আটক রয়েছেন। এর প্রায় অর্ধেকই প্রকৃত শরণার্থী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। বিভিন্ন দেশ থেকে নৌকায় করে আসা শরণার্থীদের ঢলকে সামাল দিতে গোটা ইউরোপ যখন হিমশিম খাচ্ছে সেসময় বহু বছরের বিতর্কিত নীতিমালা বহাল রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। নৌকায় করে আসা অভিবাসন প্রত্যাশীদের আটকানো এবং পরে তাদের দ্বীপান্তরিত করে আসছে দেশটি। আশ্রয়প্রার্থীদের কখনও পাপুয়া নিউগিনির মানুস দ্বীপে আবার কখনও নাউরু দ্বীপের আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখান থেকেই নিজেদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন আশ্রয়প্রার্থীরা। অস্ট্রেলিয়া সরকারের দাবি, নৌকায় করে চলে আসলেই যে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হয়ে যাওয়া যাবে না সে কথাটুকু সম্ভাব্য আশ্রয়প্রার্থীদের বোঝাতেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন।
আরও পড়ুন: ‘মানুস দ্বীপে শরণার্থীদের আটকে রাখা অসাংবিধানিক’
মঙ্গলবার ওই মানুস দ্বীপে অভিবাসন প্রত্যাশীদের আটক করে রাখাকে অসাংবিধানিক বলে রুল জারি করেন পাপুয়া নিউ গিনির সুপ্রিম কোর্ট। ওই রুলে বলা হয়, পাপুয়া নিউ গিনির সংবিধানের ৪২ ধারায় ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সেদিক থেকে মানুস দ্বীপে অভিবাসন প্রত্যাশী ও শরণার্থীদের আটক করে রাখাটা সে ৪২ ধারার লঙ্ঘন। আরও পড়ুন: শরণার্থী শিশুদের দ্বীপান্তরিত জীবনের আর্তনাদ
আর বুধবার আটক কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে পিটার বলেন, ‘বর্তমানে আঞ্চলিক প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে থাকা অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নিতে অস্ট্রেলীয় সরকারকে বলা হবে। এর মধ্যে যারা বৈধ শরণার্থী বলে গণ্য হবেন, তারা চাইলে আমাদের সমাজের অংশ হতে পারবেন এবং আমাদের কমিউনিটির হয়ে কাজ করতে পারবেন। তবে এ শরণার্থীদের অনেকেই যে পাপুয়া নিউ গিনিতে স্থায়ী হতে চান না সেটা পরিষ্কার।’ আরও পড়ুন: শরণার্থী জীবন থেকে রক্ষা পেতে গাছে চড়লেন কুর্দি সাংবাদিক!
এদিকে, মঙ্গলবার পাপুয়া নিউ গিনির সুপ্রিম কোর্টের রুল জারির পর অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন মন্ত্রী পিটার ডাটন পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন, অভিবাসন প্রত্যাশীদের অস্ট্রেলিয়ায় ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে না। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/বিএ/








