২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। নরওয়ের নোবেল কমিটি বলেছে, ‘শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় তার প্রচেষ্টার’ জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
নাভি পিল্লাই ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে, নাটাল প্রদেশে এক তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষরা উনিশ শতকে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক হিসেবে ভারত থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে নাটাল প্রদেশে নিজের আইন চেম্বার খোলা প্রথম নারী তিনি।
এ ছাড়া বর্ণবাদ পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারক এবং প্রথম বর্ণবাদবিরোধী আইনজীবী হিসেবে যাত্রা শুরু তার।
কর্মজীবনের শুরুতে পিল্লাই বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা রাজনৈতিক বন্দীদের পক্ষে দাঁড়ান। নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বহু বর্ণবাদবিরোধী নেতার জন্য আইনি লড়াই, রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য উন্নত কারাবাসের ব্যবস্থা এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে মামলায় তিনি পরিচিতি পান। নোবেল কমিটি তাকে ‘আইনজীবী ও আইনি অগ্রদূত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
পিল্লাইয়ের আন্তর্জাতিক বিচারিক ক্যারিয়ার তিনটি ধাপে গড়ে উঠেছে, যা তাকে সরাসরি আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
১৯৯৫ সালে বর্ণবাদের অবসানের পর তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে নিয়োগ পান, একই বছর জাতিসংঘের উদ্যোগে রুয়ান্ডা গণহত্যার বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে নির্বাচিত হন।
তিনি ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এই ট্রাইব্যুনালের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তিনি ইতিহাস তৈরি করেন। ধর্ষণকে গণহত্যার হাতিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এবং সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারের নজির স্থাপন করেন।
২০০৩ সালে হেগে অবস্থিত স্থায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রথম দফার ১৮ বিচারকের একজন হিসেবে নিযুক্ত হন। আইসিসি তখন সবেমাত্র যাত্রা শুরু করেছে। ৫ বছর তিনি আইসিসি-এর আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কাঠামো তৈরিতে কাজ করেন। এই দুটি আদালতে তার কাজই নোবেল কমিটির প্রশংসার মূল ভিত্তি।
২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দায়িত্বে থাকাকালে তিনি শ্রীলঙ্কা সরকারকে কর্তৃত্ববাদী আখ্যা দিয়ে তামিল বেসামরিকদের ওপর চালানো নৃশংসতার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন।
২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধের সময় তিনি বলেন, ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলায় তিনি অ্যাডহক বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতিত্ব করেন।