ইথিওপিয়া সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) ড্রোন হামলায় ২৬ নারী ও ৪ শিশু নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের এ হামলার কথা এএফপিকে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সুদানে নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আরএসএফের যুদ্ধের সর্বশেষ রণাঙ্গন এখন ইথিওপিয়ার সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চল। ইথিওপিয়া নিজেও অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জর্জরিত, যা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের যুদ্ধ শুরুর পর ২ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ত্রাণকর্মীদের ধারণা। এতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, শুধু এ বছরই ব্লু নাইল রাজ্যজুড়ে প্রায় ১ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ব্লু নাইলের আবু শেন্দির একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে হামলার শিকার ২৬ নারী ও ৪ শিশুকে দাফন করা হয়েছে বলে এএফপিকে জানান দাফনে যুক্ত একব্যাক্তি। তিনি বলেন, আমরা ২৬ নারী ও ৪ শিশুকে দাফন করেছি।
ড্রোনটি শিবিরের ঠিক বাইরে একটি অনানুষ্ঠানিক স্বর্ণখনির কাছে আঘাত হানে। সেখানে পুরুষদের তোলা মাটির দলা থেকে রাসায়নিক ও খালি হাতে স্বর্ণের টুকরো বাছাই করে নারীরা দৈনিক মজুরি আয় করেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নিহতদের মধ্যে পরিবারের সঙ্গে স্বর্ণ পরিশোধনের কাজ করা তরুণীরাও ছিলেন।
আবু শেন্দির মতো অস্থায়ী কার্যক্রমের ওপর ভর করে গড়ে ওঠা সুদানের বহু বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ বাণিজ্য দুই পক্ষেরই যুদ্ধপ্রচেষ্টায় রসদ জোগাচ্ছে।
হামলার এলাকা ওয়াদ আল-মাহির গভর্নর মাহগুব আল-শেখ বলেন, ড্রোনটি ইথিওপিয়ার ভেতর থেকে ছোড়া হয়েছে। সুদান বারবার অভিযোগ করে আসছে, ইথিওপিয়া তাদের ভূখণ্ডে আরএসএফের যোদ্ধা ও ঘাঁটিকে আশ্রয় দিচ্ছে। ইথিওপিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সীমান্তটি উন্মুক্ত হওয়ায় আধাসামরিক বাহিনী ও তার মিত্রদের জন্য এটি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ।
‘যুদ্ধবিরতির’ এক বছরে গাজায় শিশুসহ ১৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত