যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে উত্তর কোরিয়াকে পণ্য ও যন্ত্রপাতি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে । দেশটির বিরোধী দলীয় একজন সংসদ সদস্য শুক্রবার শুল্ক বিভাগের নথি প্রকাশ করেছেন, যার মাধ্যমে পণ্য ও যন্ত্রপাতি পাঠানোর বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের মতো কোনও কিছু তারা করেনি। পণ্য ও যন্ত্রপাতি দুই কোরিয়ার সীমান্তে নির্মিতব্য লিয়াজোঁ অফিসের জন্য পাঠানো হয়েছে, যাতে সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা গেলে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ পান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক অবনতির আশঙ্কা ব্যক্ত করছেন সে দেশের বিরোধী দলীয় রাজনীতিবিদরা ।
দক্ষিণ কোরিয়া গত জুন ও জুলাই মাসে প্রায় ৯ লাখ ডলার মূল্যের যেসব পণ্য ও যন্ত্রপাতি উত্তর কোরিয়ায় পাঠিয়েছে দেশটির শুল্ক বিভাগের নথি মোতাবেক তার মোট ওজন একশ ১৩ টন। এসবের মধ্যে রয়েছে ইস্পাত, তামা, নিকেল, পানি গরম করার যন্ত্র ইত্যাদি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য চেয়ং ইয়াং সেওগের ভাষ্য, যেসব পণ্য ও যন্ত্রপাতি উত্তর কোরিয়ায় পাঠানো হয়েছে সেগুলো উত্তর কোরিয়ায় প্রেরণ করায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার এমন সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের যে ঘোষণা কিম জং উন দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন করতে দেশটির ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সিঙ্গাপুর সম্মেলনে আশ্বাস দিলেও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে বিষয়ে দেশটির কোনও পরিকল্পনার কথা এখনও নিশ্চিভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ কার্যকর করতে একদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে অবরোধ আরোপ করে চাপে রাখছে উত্তর কোরিয়াকে।
রয়টার্স লিখেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে উদ্যোগী। দুই দেশের সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার ভেতরে কেইসং নামক স্থানে এ বছরেই একটি যোগাযোগ কার্যালয় স্থাপন করা হবে। কিন্তু বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ওই কার্যালয় স্থাপনের পেছেনে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। চেয়ং ইয়াং সেওগসহ অপরাপর বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদরা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া যে পরিমাণ পণ্য ও যে পরিমাণ পণ্য ও যন্ত্রপাতি উত্তর কোরিয়ায় পাঠাচ্ছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ হয়েছে। গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্ক বিভাগ জানিয়েছিল, দেশটির তিনটি প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার পণ্য আখ্যা দিয়ে উত্তর কোরিয়া থেকে কয়লা আমদানি করেছে। যার ফলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে একটি লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপনের জন্যই কিছু পণ্য ও যন্ত্রপাতি পাঠানো হয়েছে। এতে করে দক্ষিণ কোরিয়ার যেসব কর্মকর্তা সেখানে কাজ করবেন তারা সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ পাবেন। তাদের ভাষ্য, ‘এসব পণ্য ও যন্ত্রপাতি পাঠানোর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে কোন অর্থনৈতিক সুবিধা করে দেওয়া হয়নি। আমরা নিশ্চিত করে বলতে চাই, এসব পণ্য ও যন্ত্রপাতি পাঠানোর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার ওপর বলবৎ থাকা নিষেধাজ্ঞার শর্ত ভঙ্গ হয়নি।
সিউলভিত্তিক ‘আসান ইন্সটিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের’ গবেষক শিন বেওম চুল মন্তব্য করেছেন, ‘একদিকে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠানের এমন নিষেধাজ্ঞাবিরোধী কাজ করেছে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার মতবিরোধ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, ‘আমরা যদি এভাবে চলি তাহলে মতপার্থক্য বাড়তেই থাকবে আর তাতে অনেক বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।’







