চীনের ঋণে নির্মিতব্য রেল লাইন অবকাঠামোর প্রকল্প বাতিল করেছে পাকিস্তান। মূলত ঋণ পরিশোধের বিষয়ে শঙ্কা থেকেই দেশটির এমন সিদ্ধান্ত। অথচ ওই রেল প্রকল্পটি ‘চায়না-পাকিস্তান ইকনোমিক করিডোরের’ (সিপিইসি) অংশ যা আবার ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) নামে পরিচিত চীনের বৃহৎ প্রকল্পের অংশ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিআরআইয়ের অধীনে যতগুলো চীনা প্রকল্প পাকিস্তানে রয়েছে সেগুলোর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে বড়।
সংশ্লিষ্ট রেল প্রকল্পের আওতায় ছিল ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত করাচি ও পেশোয়ারের মধ্যে চালু থাকা এক হাজার ৮৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন। সোমবার পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী শেখ রাশিদ ২০০ কোটি ডলারের প্রকল্পটি বাতিল করার সময় ঋণের বোঝা নিয়ে পাকিস্তানের শঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পাকিস্তান একটা দরিদ্র দেশ, এত বড় ঋণের বোঝা বইতে পারবে না। তাই আমরা ‘চায়না-পাকিস্তান ইকনোমিক করিডোরের’ (সিপিআইসি) অংশ রেল প্রকল্পটি ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগে সিপিইসির সব প্রকল্পের মোট আকার ছিল ৮২০ কোটি ডলার। আর এখন তা দাঁড়াচ্ছে ৬২০ কোটি ডলারে।
তবে সেখানেই থামছে না পাকিস্তান। রেলমন্ত্রী রশিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তান সিপিইসির আকার আরও কমাতে চায়। করাচি-পেশোয়ার মেইন লাইন প্রকল্পের বিষয়ে ইসলামাবাদের সমর্থন থাকলেও বিদ্যমান ৬২০ কোটি ডলারের প্রকল্প ছোট করে ৪২০ কোটি ডলারে নামিয়ে আনতে চায় দেশটি।
রয়টার্স লিখেছে, এই রেল প্রকল্প বাতিলের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান আসলে পুরো বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে তার নিজের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করছে। বিআরআইয়ের অধীনে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৬০ হাজার কোটি ডলারের অর্থায়ন প্রস্তাব দিলেও পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান চীনা ঋণের অর্থ নেওয়া হবে কি না তা নিয়ে আগের সরকারের চেয়ে বেশি সতর্ক।
মেইন লাইন-১ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ঋণের শর্ত উপেক্ষা করে বড় ছাড়ের জন্য দেনদরবার করেছে দেশটি। পাকিস্তান এমন কি ঋণের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের বদলে ‘বিল্ড অপারেট ট্রান্সফার’ মডেলের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, তৃতীয় কোনও দেশ বা চীন নিজেও ওই মডেল অনুযায়ী পাকিস্তানে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে তা পরিচালনা করতে পারে। এতে ঋণের দায়ে জর্জরিত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে।







