সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় মিয়ানমারে চীনবিরোধী ক্ষোভ ক্রমাগত জোরালো হয়ে উঠছে। গত এক সপ্তাহ ধরে অভ্যুত্থানবিরোধী হাজার হাজার মানুষকে ইয়াঙ্গুনে চীনা দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। বেইজিং-এর ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে সমাবেশ করছেন তারা। মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে জান্তা সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারে ব্যাপক বিক্ষোভ হচ্ছে। রাজপথে নেমে আসছে হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভ দমনে পুলিশও কঠোর হয়ে উঠতে শুরু করেছে। সেনা অভ্যুত্থানের দিনেই নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিসহ উর্ধ্বতন নেতাদের গ্রেফতারের পর বহু বিক্ষোভকারীকেও আটক করা হচ্ছে। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনী ও সাঁজোয়া যান।
অভ্যুত্থানের শুরু থেকে চীন একে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যু বলে পাশ কাটিয়ে আসছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারবিরোধী একটি নিন্দা প্রস্তাবও আটকে দেয় দেশটি। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা কিংবা আন্তর্জাতিক চাপ পুরো পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করবে। এমন অবস্থায় মিয়ানমারে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পাশাপাশি চীনবিরোধী সমাবেশও চলছে। এর অংশ হিসেবে সোমবারও দূতাবাসের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ হয়েছে। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- ‘আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত’ ‘ন্যায়বিচার অন্ধ হয়ে গেছে, অভ্যুত্থান করা অপরাধ, আর পেছনে রয়েছে চীন’ ‘চীন আমাদের গনতন্ত্র ভেঙে দিয়েছে’ ‘মিয়ানমারের সেনাশাসন চীনে দ্বারা তৈরি’ ‘চীন মিয়ানমারের ক্ষতি করছে’ ‘মিয়ানমারকে সমর্থন কর, স্বৈরশাসনকে নয়’।
২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মা সু থিংগি হতুন ইরাবতিকে বলেন, ‘আমরা চীনের প্রতি ক্ষুব্ধ। চীন যেন সেনাবাহিনীকে সমর্থন করে সে দাবি জানিয়ে আসছি আমরা, কিন্তু তারপরও তারা সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের জনগণ যে সেনা সরকার গ্রহণ করে না তা দেখিয়ে দিতে চীনের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে আমাদেরকে। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা এটা উপলব্ধি না করবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত আমি এখানে বিক্ষোভ করতে আসব।’
সোমবার তরুণ বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসের গেটের সামনে তৈরি ব্যারিকেডের কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলো সিসি ক্যামেরার সামনে ধরে রেখেছিলেন তারা।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারে পূর্ববর্তী সেনা সরকারের সময় দেশটির সঙ্গে অনেকেই যখন সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছিল, তখনও ঘনিষ্ঠ মিত্রতা বজায় রেখেছিল চীন। মিয়ানমারে সামরিক সরঞ্জামাদির একটা বড় অংশ চীন থেকে কেনা হয়ে থাকে। অবশ্য, মিয়ানমারে অভ্যুত্থানকে সমর্থন দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে বেইজিং।







