অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিয়ে ইউরোপে যেভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে তাতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার ফর্মুলাতেই কোভিশিল্ড তৈরি হওয়াতে এই ভ্যাকসিনেও জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এমন উদ্বেগের মধ্যেই মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন নিরাপদ। এখনই এটির প্রয়োগ বন্ধ করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ডোজে রক্ত জমাট বেঁধে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব খবর খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু কোভিশিল্ড টিকায় এখনও অবধি এমন কোনও জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর আসেনি। ভারতে ২ কোটির বেশি ভ্যাকসিন প্রয়োগ হয়ে গেছে। এমন কোনও অভিযোগও ওঠেনি।
সেরাম ইনস্টিটিউট শুধু ভারতের নয়, বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা। অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের কয়েক কোটি ডোজ তৈরি করছে সেরাম। ভারতে এটির নাম কোভিশিল্ড। দেশটিতে সেরামের কোভিশিল্ড ও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হচ্ছে।
ভারতীয় মন্ত্রণালয় জানায়, ভ্যাকসিনের ডোজে কোনও ত্রুটি আছে কিনা তা প্রামাণ্য তথ্য সামনে আসার পরেই বিবেচনা করা হবে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে কোনও দৃঢ় প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। তাই কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না।
অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নেওয়ার পর রক্ত জমাট বাঁধছে শরীরে। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর সামনে আসতেই ভ্যাকসিনটি প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ডেনমার্ক, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও নেদারল্যান্ড। পরে জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্সেও অ্যাস্ট্রজেনেকার ভ্যাকসিন নিষিদ্ধ হয়েছে। মঙ্গলবার ডেনমার্ক ও লাটভিয়া এই তালিকায় যোগ দিয়েছে। সব মিলিয়ে ইউরোপ ও ইউরোপের বাইরে অন্তত ১৬টি দেশে ভ্যাকসিনটির প্রয়োগ বন্ধ রয়েছে।
এমন উদ্বেগ ও অভিযোগের মুখে ভ্যাকসিনের ডোজে রক্তে জমাট বাঁধা বা জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছে ব্রিটিশ-সুইডিশ প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা। কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কোটির বেশি মানুষকে ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হয়েছে। এমন কোনও ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও দাবি, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিরাপদ। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এটির প্রয়োগ বন্ধ না করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার ইউরোপিয়ান মেডিসিন্স এজেন্সির (ইএমএ) প্রধান এমার কুক বলেছেন, রক্তে জমাট বাঁধার সঙ্গে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের কোনও সম্পর্ক নেই। এই ঘটনাগুলো নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। এই মুহূর্তে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও মৃত্যুর ঝুঁকির চেয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন নেওয়াতে উপকার অনেক বেশি।
যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিনটিতে আস্থা রাখার কথা জানানো হয়েছে। সূত্র: দ্য ওয়াল









