তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, তার দল কাবুলে কোনও বিশৃঙ্খলা চায় না। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যেন সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায় সেজন্য আমাদের পরিকল্পনা ছিল কাবুলের প্রবেশদ্বারগুলো বন্ধ করে দেওয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আগের সরকার একেবারেই অযোগ্য ছিল। তাদের নিরাপত্তা বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কিছুই করতে পারেনি। তালেবানকেই কিছু করতে হবে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্যই আমাদের কাবুলে প্রবেশ করতে হয়েছে। আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর মঙ্গলবার কাবুলে দলের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
বিদেশি শক্তির সঙ্গে কাজ করা ঠিকাদার ও অনুবাদকদের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘কারও ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হবে না। যে তরুণরা এখানে বড় হয়েছে, আমরা চাই না তারা চলে যাক। তারা আমাদের সম্পদ। কেউ তাদের দরজায় কড়া নাড়বে না এবং জিজ্ঞাসা করবে না যে তারা কার জন্য কাজ করছে। কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ বা ধাওয়া করা হবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা অভ্যন্তরীণ বা বাইরের কোনও শত্রু চাই না। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে আফগানিস্তান আর কোনও রণক্ষেত্র নয়। যারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তাদের সবাইকে আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। শত্রুতা শেষ হয়ে গেছে। ২০ বছরের লড়াইয়ের পর আমরা দেশকে মুক্ত করেছি এবং বিদেশিদের বের করে দিয়েছি। পুরো জাতির জন্য এটি একটি গর্বের মুহূর্ত।’
এদিন সংবাদমাধ্যম নিয়েও কথা বলেন তালেবান মুখপাত্র। তিনি জানান, আফগানিস্তানে তালেবান শাসনে বেসরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালাতে পারবে। তার ভাষায়, ‘আমি সংবাদমাধ্যমকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক কাঠামোর আওতায় মিডিয়ার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ। তবে তাদের কর্মকাণ্ড ইসলামি মূল্যবোধের বিরুদ্ধে হওয়া উচিত নয়। তাদের উচিত আমাদের দুর্বলতার দিকে মনোযোগ দেওয়া, যাতে আমরা সেগুলো কাটিয়ে উঠে জাতির সেবা করতে পারি। তাদের আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করা উচিত নয়। মিডিয়ার উচিত জাতির ঐক্যের জন্য কাজ করা।’
এদিন আফগানিস্তানে নারী অধিকার নিয়েও কথা বলেন তালেবান মুখপাত্র। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে চাই কেউ তাদের ক্ষতি করবে না। আমরা শরিয়ার আলোকে নারীদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। কোনও বৈষম্য করা হবে না।









