পূর্ব এশিয়ার দেশ চীনে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বর নিয়ে দেশে ফেরেন। এর পরই তার শরীরে ওই ভাইরাস ধরা পড়ে।
খবরে জিকা সংক্রমিত ৩৪ বছরের ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি পূর্বাঞ্চলীয় চিয়াংসি প্রদেশের গানজিয়ান কাউন্টির বাসিন্দা। আক্রান্ত ব্যক্তিকে তার নিজ শহরের একটি হাসপাতালে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আলাদা রাখা হয়েছে। তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে।
ইতোমধ্যে দুই আমেরিকার ২৪টিরও বেশি দেশে জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জিকা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করে। তবে বিদ্যমান শীতের চীনা কর্তৃপক্ষ এ ঝুঁকির বিষয়টি সেভাবে আমলে নেয়নি।
এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত ৪০ লাখ। শুধু ব্রাজিলেই জিকা ভাইরাসের কারণে ৪০ হাজার শিশু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিয়েছে। আর পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলো ভাইরাসে অন্তত ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
১৯৪৭ সালের এপ্রিলে আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় সর্বপ্রথম জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। উগান্ডার এ জিকা বনাঞ্চলে ১৯৪৭ সালে প্রথম এ ভাইরাসের সন্ধান মেলে। এ কারণে এর নাম দেওয়া হয় ওই বনের নামে।
সন্ধান পাওয়ার সাত বছর পর নাইজেরিয়ায় প্রথম মানবদেহে এ ভাইরাস সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলোতে।
গতবছর ব্রাজিলে নতুন করে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর খোঁজ মেলার পর মাত্র চার মাসের মধ্যে বহু দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে।
জিকা ভাইরাসের লক্ষণও সবসময় স্পষ্ট থাকে না। এই ভাইরাসের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে নবজাতকদের নিয়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গর্ভবতী মা জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার অনাগত শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হতে পারে, মস্তিষ্কের গঠন থাকতে পারে অপূর্ণ। এ রোগকে বলে মাইক্রোসেফালি।
এ ভাইরাসের কোনও প্রতিষেধক বা ওষুধ নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম ও বেশি করে তরল খাবার খেতে পরামর্শ দেয়া হয়।
ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনকারীরা আফ্রিকা থেকে মশার এই জাতকে সমুদ্র পার করে আমেরিকায় নিয়ে আসেন বলে গবেষকদের ধারণা। সূত্র: বিবিসি।
/এমপি/বিএ/








