X
বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪
৪ বৈশাখ ১৪৩১

গিনেস বুকে নাম লেখাতে দেড় লাখ কণ্ঠে নজরুলসংগীত

রক্তিম দাশ, কলকাতা
১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:১৬আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:১৮

গিনেস বুকে নাম লেখাতে লক্ষাধিক কণ্ঠে নজরুলসংগীত গাওয়ার আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাধুসন্তরা। আগামী ২৪ ডিসেম্বর লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের আসরে সমবেতভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান গাইবেন দেড় লাখ সনাতনী, যা বিশ্ব রেকর্ড গড়বে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। এ প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিতে গীতা পাঠের আসরে উপস্থিত থাকবেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রের্কডস এর কর্মকর্তারা।

কলকাতার বিগ্রেডের মাঠে ২৪ ডিসেম্বর সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের আসর। বিগ্রেড প্যারেড গ্রাউন্ডের সামনে ওইদিন বাংলার সাধু-সন্ত ও সনাতনীরা নজরুলের ‘হে পার্থসারথি বাজাও বাজাও পাঞ্চজন্য-শঙ্খ’ গানটি গাইবেন। নজরুলসংগীত গাওয়ার বিশ্ব রের্কড গড়তে এই প্রথম দেড় লাখ মানুষ সমবেতসুরে তার লেখা গান গাইবেন। এদিন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পক্ষ থেকে এ প্রচেষ্টার স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। এসময় আসরে উপস্থিত থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দ্বারকাপিঠের শঙ্কারাচার্য স্বরূপানন্দ সরস্বতী।

তবে সম্প্রীতির বার্তা প্রচারের লক্ষ্যে এই আসর নজরুলসংগীত দিয়ে শুরু করার প্রচেষ্টাকে ভালো চোখে দেখছেন না অনেকে। হিন্দু সনাতনীদের গীতা পাঠের আসরে অন্যধর্মের কবির লেখা গান কেন গাওয়া হবে—এ চর্চা এখন তুঙ্গে।

এ বিষয়ে উদ্যোক্তরা সাফ জানিয়েছেন, ‌কাজী নজরুল ইসলাম অন্য ধর্মের মানুষ হলেও তাকে তারা শ্রদ্ধা করেন। তাই তার গানের মাধ্যমেই গীতা পাঠের অনুষ্ঠানের সূচনা করতে চান আয়োজকরা।

লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের অন্যতম উদ্যোক্তা রিশড়া প্রেমমন্দির আশ্রমের প্রধান র্নিগুনান্দজী বলেন, ‘নজরুল ইসলামের লেখা এই গান বাংলায় ব্যাপকভাবে প্রচলিত। বাংলা ভাষায় গীতার ওপর এর চেয়ে ভালো গান আর লেখা হয়নি। তাই  তার গানটিকে বেছে নিয়েছি আমরা। এই গান তার জীবদ্দশা থেকেই বাংলার প্রতিটি মঠ-মন্দিরও আশ্রমে গীতা জয়ন্তীর দিন গাওয়ার রীতি আছে। এটি আমাদের গীতা প্রচারের প্রচলিত সংগীত।’

র্নিগুনান্দজী বলেন, ‌‘আমরা মনে করি ধর্মের সংজ্ঞা অনেক বড়। আমাদের কাছে আচরণটাই বড়। নজরুল ইসলাম আমাদের সনাতন ধর্মকে সম্মান করেছেন। রাষ্ট্রবাদী ছিলেন। ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে সম্মান করে এসেছেন বরাবর। শুধু তিনি নন, ভিন্ন ধর্ম বা মতে যিনিই সম্মান দেখান তাকেই আমরা শ্রদ্ধা করি।’

বিশ্বজুড়ে অশান্তির মধ্যে সনাতনীদের ধর্মীয় উৎসবে নজরুলের এই গান সম্প্রীতি বার্তা  দেবে বলে মনে করেন র্নিগুনান্দজী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সনাতন ধর্ম আজ পর্যন্ত বিশ্বের কোথাও কোনও বিভেদ বা হিংসার সঙ্গে যুক্ত থাকেনি। ভবিষ্যতেও থাকবে না। বিশ্বজুড়ে  সম্প্রীতির বাণী ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর আমরা।’

গীতার শ্লোক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা মন্ত্রে বলি, ‘অন্তরীক্ষ শান্তি, মানব শান্তি, বিশ্ব শান্তি। সর্বে ভবন্তু সুখিন, সর্বে সন্তু নিরাময়া, সর্বে ভদ্রানি পশ্যন্তু, মা কশ্চিদ দুঃখ মাপ্নুয়াত, ওম শান্তি শান্তি শান্তি।’ সনাতন ধর্ম কখনও শুধু হিন্দুদের শান্তিই চায়নি, বিশ্ব মানবের শান্তি চেয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই আমরা নজরুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই গান গাইব।”

নবদ্বীপ মায়পুরের সারস্বত গৌড়ীয় বৈষ্ণব সংঘের যুগ্ম সম্পাদক প্রভু জগদার্তিহা দাস বলেন, ‘নজরুল আমাদের মাটির কবি। শ্যামা সংগীত রচনায় সাধক-কবি রামপ্রসাদের পরেই সংখ্যার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইসলাম ধর্মাবলম্বী কাজী সাহেব। মোট ২৪৭টি শ্যামা সংগীত রচনা করেছেন তিনি। মুক্তমনা বিদ্রোহী এ কবি এক সময় হয়ে উঠেছিলেন ভক্তকবি। শ্রীকৃষ্ণ সর্ম্পকিত তার লেখা বাংলা ভজন ও শ্যামা সংগীতের সাধনা করলে বোঝা যায় আধ্যত্ববাদের কোন স্তরে পৌঁছেছিলেন তিনি। প্রতিটি বাঙালি হিন্দু হৃদয়ে আসন পেয়েছেন নজরুল। আমরা সাধুসন্তরা সবাই মিলে তার গান সমবেতসুরে  প্রধানমন্ত্রী মোদিজির সামনে গাইব এবং তা গিনেস বুকে স্থান পাবে, এতো আমাদের পরম গৌরব।’

পুত্র বুলবুলের অকালমৃত্যু ও স্ত্রী প্রমিলাদেবী পক্ষঘাত রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ক্রমশ ভক্তিবাদের দিকে মনোযোগী হন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। যোগী বরদাচরণের সান্নিধ্যে এসে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তখন থেকেই বৈষ্ণব ও শাক্ত ধর্মের প্রভাবে একের পর একে ভক্তিগীতি রচনা করতে থাকেন নজরুল। তার এই রচনা বাঙালির হৃদয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, যার রেশ রয়ে গেছে আজও। বাংলার বহু মঠ-মিশন ও আশ্রমে পূজার সময় তার এই ভক্তিমূলক গান গাওয়া হয়। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এর প্রতিটি শাখায় নিয়মিত নজরুলের ভক্তিমূলক গানগুলির গাওয়া এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

/এএকে/
সম্পর্কিত
অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক প্রবেশ নিষিদ্ধ করলো রাশিয়া
কলকাতায় চালু হল চালকবিহীন মেট্রো
তিন ডজন মামলাআইনি জটিলতায় ফেরত আনা যাচ্ছে না পিকে হালদারকে
সর্বশেষ খবর
রাজধানীতে ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে নারীর মৃত্যুর অভিযোগ
রাজধানীতে ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে নারীর মৃত্যুর অভিযোগ
ইলিয়াস আলীসহ সব গুম রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে, অভিযোগ রিজভীর
ইলিয়াস আলীসহ সব গুম রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে, অভিযোগ রিজভীর
মুজিবনগর সরকার ও মুক্তিযুদ্ধ
মুজিবনগর সরকার ও মুক্তিযুদ্ধ
অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক প্রবেশ নিষিদ্ধ করলো রাশিয়া
অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক প্রবেশ নিষিদ্ধ করলো রাশিয়া
সর্বাধিক পঠিত
ডিপ্লোমাধারীদের বিএসসির মর্যাদা দিতে কমিটি
ডিপ্লোমাধারীদের বিএসসির মর্যাদা দিতে কমিটি
উৎসব থমকে যাচ্ছে ‘রূপান্তর’ বিতর্কে, কিন্তু কেন
উৎসব থমকে যাচ্ছে ‘রূপান্তর’ বিতর্কে, কিন্তু কেন
‘ভুয়া ৮ হাজার জনকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে’
‘ভুয়া ৮ হাজার জনকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে’
চুরি ও ভেজাল প্রতিরোধে ট্যাংক লরিতে নতুন ব্যবস্থা আসছে
চুরি ও ভেজাল প্রতিরোধে ট্যাংক লরিতে নতুন ব্যবস্থা আসছে
রুশ হামলা ঠেকানোর ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে গেছে: জেলেনস্কি
রুশ হামলা ঠেকানোর ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে গেছে: জেলেনস্কি