চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) অংশগ্রহণকারী দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ২০২৫ সালে আরও বাড়বে এবং এতে করে দেশটির রফতানিকারকদের মুনাফা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সবুজ রূপান্তর, ভোক্তা চাহিদা এবং শিল্পায়নের প্রয়োজন মেটাতে উদীয়মান অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে এই প্রবৃদ্ধির গতি বাড়বে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন বিশ্লেষক ও ব্যবসায়িক নেতাদের।
চীনের রফতানিকারকরা বাজার বৈচিত্র্য আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সুরক্ষাবাদ ও কোনও নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে ‘সম্পর্কচ্ছেদের’ ঝুঁকি মোকাবিলায় যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা এই প্রবণতাকে আরও জোরদার করেছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক সংযোগ এবং সরবরাহ চেইন কার্যক্রমও রফতানিকারকদের মুনাফা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিআরআই অংশগ্রহণকারী অর্থনীতির সঙ্গে চীনের বাণিজ্য বছরে ৬ শতাংশ বেড়ে ১৮.৭৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া লাতিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্য যথাক্রমে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিআরআই উদ্যোগের বাস্তব প্রবৃদ্ধি এবং চীন-ইউরোপ মালবাহী ট্রেন পরিষেবাও বাণিজ্য সম্পর্ক শক্তিশালী করেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ, বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
চীনের হুচৌ সানি লোডার কোম্পানি ইতোমধ্যে ইলেকট্রিক লোডার রফতানি শুরু করেছে, যা ডিজেল লোডারের তুলনায় ৬৬-৭৫ শতাংশ কম অপারেটিং খরচে পরিচালিত হয়। এই ধরনের পণ্য রফতানি বাড়িয়ে তুলতে চীনা নির্মাতারা নতুন বাজারে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
নানথোং-ভিত্তিক অ্যামফেনল হাই স্পিড টেকনোলজি এই বছর বিআরআই অংশীদারদের কাছে ১৪৫ কোটি ইউয়ান মূল্যের তার ও ক্যাবল রফতানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৯০ শতাংশ বেশি।
সূত্র: সিএমজি









