আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারকরা রায় দিয়েছেন, ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার মোকাবিলার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম। তার বিরুদ্ধে বিতর্কিত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সহিংসতার অভিযোগে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, আইনগত মানদণ্ড ও স্বাধীন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন পর্যালোচনা করে চেম্বার নিশ্চিত হয়েছে যে দুয়ার্তে কার্যকরভাবে নিজের আইনি অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। বিচারকরা বলেন, কাউকে বিচারের উপযোগী হিসেবে বিবেচনার জন্য সর্বোচ্চ মানসিক সক্ষমতা নয়, বরং প্রক্রিয়া সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা থাকাই যথেষ্ট।
এই রায়ের মাধ্যমে ৮০ বছর বয়সী দুয়ার্তের শারীরিক দুর্বলতার যুক্তি তুলে ধরে তার আইনজীবীদের করা আপত্তি নাকচ করা হয়। দুয়ার্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, দাভাও শহরের মেয়র থাকাকালীন এবং পরে ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত বহু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।
দুয়ার্তের প্রধান আইনজীবী নিক কফম্যান আদালতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, আসামী পক্ষকে নিজস্ব চিকিৎসা প্রমাণ উপস্থাপন বা বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তেকে ২০২৫ সালের মার্চে গ্রেফতার করে নেদারল্যান্ডের হেগে নিয়ে আসা হয়। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের ওপরে বিচারকার্যক্রম শুরু করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ আছে কিনা, তার ওপর শুনানি শুরু হবে।
আইসিসির প্রসিকিউটরদের দাবি, দুয়ার্তে সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে তথাকথিত ‘ডেথ স্কোয়াড’ গঠন ও সহায়তা করেছিলেন। পুলিশের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ছয় হাজারের বেশি হলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, প্রকৃত সংখ্যা ৩০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। তবে দুয়ার্তে বারবার এই অভিযানকে বৈধ বলে দাবি করেছেন এবং বলেছেন, মাদক নির্মূলে কঠোর অভিযান প্রয়োজনীয় ছিল।








