সবুজ প্রযুক্তিতে খনির পুনর্জন্ম

ফয়সল আবদুল্লাহ
২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০৪ আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০৪

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চীন। দেশটির পরিত্যক্ত খনি এলাকাগুলোকে সবুজ জ্বালানি ও টেকসই শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে হুবেই প্রদেশের তাইয়্য শহরে।

একসময় ধুলা ও কাদায় ভরা সোংওয়ান গ্রামটি ছিল খনির কার্যক্রমে ক্ষতবিক্ষত। প্রায় ৫০০টি সক্রিয় খনি থাকার কারণে গ্রামজুড়ে বাতাসে ধুলার স্তর জমে থাকত। অতিরিক্ত খনন এলাকার পরিবেশ এতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে যে, ২০০৮ সালে দায়ে শহরকে ‘সম্পদ-শূন্য শহর’ ঘোষণা করা হয়।

এখন পরিস্থিতি বদলেছে। গ্রামটির কাছে পরিত্যক্ত বাওশেং খনিকে আধুনিক হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। খনির জমিতে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পে পাহাড়ের ঢালে বসানো হয়েছে সৌর প্যানেল। পরিত্যক্ত সুড়ঙ্গকে ব্যবহার করা হচ্ছে হাইড্রোজেন সংরক্ষণের গুহা হিসেবে। সমতল জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে উৎপাদন কারখানা। ২০২৩ সালের মার্চে ১৭ কোটি ৮০ লাখ ইউয়ান বিনিয়োগে প্রকল্পটি শুরু হয় এবং ২০২৪ সালের এপ্রিলে উৎপাদন শুরু করে।

২০২৫ সালে প্রকল্পটি প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এবং এর মাধ্যমে বছরে প্রায় দেড় হাজার টন হাইড্রোজেন উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন গতি এনেছে এই উদ্যোগ, যার বার্ষিক উৎপাদনমূল্য প্রায় ২০০ কোটি ইউয়ান।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ছিল খনির ভেতর নিরাপদে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ। এ জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষ চীনের বিজ্ঞান একাডেমির গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে এশিয়ার প্রথম ‘রক ক্যাভার্ন হাইড্রোজেন স্টোরেজ’ পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এতে ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, নতুন শক্তিশালী উপাদান এবং ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের ফলে গ্রামের পরিবেশ যেমন বদলেছে, তেমনি মানুষের জীবনযাত্রাও উন্নত হয়েছে। অনেক নারী এখন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা অন্যান্য কাজে নিয়োজিত হয়ে ভালো আয় করছেন। গ্রামটির প্রধান সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে, নদী পরিষ্কার করা হয়েছে এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

একই ধরনের পুনর্বাসন প্রকল্প দায়ে শহরের পিংশান গ্রামেও বাস্তবায়িত হয়েছে। সেখানে একটি বড় পাথরের খনিকে শিল্পকারখানার জন্য ব্যবহারযোগ্য জমিতে পরিণত করা হয়েছে। ৫৬ কোটি ইউয়ান বিনিয়োগে সেখানকার খনি এলাকার সাড়ে ১৮ হেক্টর জুড়ে একটি সার উৎপাদন কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে, যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা আট লাখ টন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে দায়ে শহরে ৫০০টির বেশি খনি ও বর্জ্যভান্ডার বন্ধ করা হয়েছে এবং ৭০টির বেশি খনি এলাকা পুনর্বাসন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, একসময় ধুলা ও দূষণে ভরা এই অঞ্চল এখন অনেকটাই বাসযোগ্য। নতুন প্রকল্পগুলো শুধু পরিবেশ পুনরুদ্ধারই করছে না, বরং কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগও তৈরি করছে।

 

সূত্র: সিএমজি

/এএ/
সম্পর্কিত
আদালতের কাছে ‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ চাইলেন ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব
চীনের কাছে বিদ্যুৎ খাতের প্রকল্পে দ্রুত অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
ডিসির নির্দেশে রাতারাতি বদলে গেলো দেশলাই কাঠির প্রতিমা
ডিসির নির্দেশে রাতারাতি বদলে গেলো দেশলাই কাঠির প্রতিমা
এনসিপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
এনসিপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে জোর, ৩ মাস পর অগ্রগতি দেখতে চান মন্ত্রী
ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে জোর, ৩ মাস পর অগ্রগতি দেখতে চান মন্ত্রী
শিশুর অভিভাবকত্বে আইনি জটিলতা দূর করার তাগিদ
শিশুর অভিভাবকত্বে আইনি জটিলতা দূর করার তাগিদ
সর্বাধিক পঠিত
জেলেদের কাছ থেকে ১০ মণ ইলিশ মাছ উদ্ধার, এতিমখানায় বিতরণ
জেলেদের কাছ থেকে ১০ মণ ইলিশ মাছ উদ্ধার, এতিমখানায় বিতরণ
মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
উন্মুক্ত হচ্ছে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে, বড় পরিবর্তন আসবে যোগাযোগে
উন্মুক্ত হচ্ছে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে, বড় পরিবর্তন আসবে যোগাযোগে
অতিরিক্ত খরচ আর ঝুঁকি নিয়ে ভিন্ন রুটে রিয়াদ যাচ্ছেন প্রবাসীরা 
অতিরিক্ত খরচ আর ঝুঁকি নিয়ে ভিন্ন রুটে রিয়াদ যাচ্ছেন প্রবাসীরা 
ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ওষুধ কারখানা বন্ধ ঘোষণা
ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ওষুধ কারখানা বন্ধ ঘোষণা