উত্তর কোরিয়ার দুই যুদ্ধবন্দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর তথ্য প্রকাশের ঘটনায় ইউক্রেন ক্ষমা না চাইলে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উত্তর কোরীয় ওই দুই যুদ্ধবন্দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর তথ্য প্রকাশ করেন। বিষয়টি গোপন রাখার কথা থাকার পরেও এভাবে প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয় সিউল।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ঘটনাটিকে কূটনৈতিক ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানে কিয়েভ কাজ করছে। তবে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লি এ ধরনের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি লিখেন, বিষয়টি কোরীয় জনগণ ও জাতির মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, দুই যুদ্ধবন্দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ ইউক্রেনই করেছিল। এর একটি কারণ ছিল উত্তর কোরীয়দের পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়া। একই সঙ্গে ইউক্রেন আশঙ্কা করেছিল, বন্দিদের বিনিময়ে ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দিদের ফেরত নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করার জন্য তাদের সমালোচনা করা হতে পারে।
তবে জেলেনস্কির কার্যালয় বলেছে, বিষয়টি গোপন রাখার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনও চুক্তি ছিল না। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
জেলেনস্কির প্রকাশ্যে তথ্য জানানোর পর নিজ দেশেও সমালোচনার মুখে পড়েন লি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দল অভিযোগ করে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে তিনি ওই হস্তান্তরের বিষয়টি গোপন করেছিলেন।
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া হাজারো উত্তর কোরীয় সেনার মধ্যে ওই দুই যুদ্ধবন্দিও ছিলেন। এর আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তারা জানিয়েছিলেন, তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে চান।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমকে সিবিহা বলেন, তিনি আশা করছেন খুব শিগগিরই পরিস্থিতির সমাধান হবে। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ধারাবাহিকতা ও বাস্তব ফলাফল নিয়ে তিনি আশাবাদী।
জবাবে লি অভিযোগ করেন, কিয়েভ কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধ ডেকে আনার চেষ্টা করছে। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেন, চুক্তির বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে ইউক্রেন উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের কথা বলছে, যা নিয়ে সিউল গুরুতরভাবে হতাশ।
রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ইউক্রেনের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান নিয়েছে। তবে সক্রিয় যুদ্ধে জড়িত কোনও দেশকে প্রাণঘাতী অস্ত্র না দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতি বজায় রেখেছে সিউল।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে চিলিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-সংঘর্ষ