উত্তর কোরিয়া কয়েক দিনের মধ্যে পুরো সীমান্ত বরাবর দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী লাউডস্পিকার প্রস্তুত রাখবে এবং অনির্দিষ্ট নতুন পাল্টা ব্যবস্থাকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নেতার ক্ষমতাধর বোন কিম ইয়ো জং। বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা বলেন।
উত্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে পিয়ংইয়ং যা বলছে, দক্ষিণ কোরিয়া তা চালিয়ে গেলে সিউলকে সবচেয়ে ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুরক্ষা স্থাপনা পরিদর্শনের পর কিম বলেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ সীমান্তজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী লাউডস্পিকার সক্রিয় করবে উত্তর কোরিয়া।
তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার ট্যাকটিক্যাল ইউনিটগুলো নতুন অবস্থানে চলে গেছে। তার অভিযোগ, সীমান্তের কাছে একাধিক স্থানে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সতর্কবার্তা সম্প্রচার ও সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়েছে বৈধ ও আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে। কিম হুঁশিয়ার করেন, সতর্কতামূলক গুলিতে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা সেনাদের ক্ষতি হলে উত্তর কোরিয়ার সেনারা দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনীকে নির্মমভাবে নির্মূল করবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ও একীকরণ মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়াকে মতপার্থক্য মেটাতে আলোচনায় ফিরতে আহ্বান জানিয়েছে। সামরিক বাহিনীর বক্তব্য, কিমের বিবৃতি দেখাচ্ছে, জাতিসংঘ কমান্ডের সঙ্গে অসামরিক অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ জোরদারে নেওয়া পদক্ষেপগুলো প্রভাব ফেলছে। এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, উত্তর কোরিয়া হুমকি বাস্তবায়ন করলে সিউল সমানুপাতিক ব্যবস্থা নেবে, যদিও এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
লাউডস্পিকার হুমকিতে সিউলের ওপর চাপ
পিয়ংইয়ংয়ের নতুন হুমকি আন্তঃকোরীয় শত্রুতা কমাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ংয়ের প্রচেষ্টার জন্য ধাক্কা। গত বছরের জুনে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ উত্তেজনা সুরক্ষিত সীমান্তে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঐতিহাসিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া উভয়েই সীমান্তের ওপারে প্রচারণা সম্প্রচারে লাউডস্পিকার ব্যবহার করেছে। দক্ষিণের সম্প্রচারে কে-পপ গান ও সংবাদ থাকত, যা পিয়ংইয়ংকে দীর্ঘদিন বিরক্ত করেছে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ, সুরক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উত্তরের পুঁতে রাখা মাইনে গত মাসে ডিএমজেডে বিস্ফোরণে দুই সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। উত্তর কোরিয়া দায় অস্বীকার করে ঘটনাটিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বানোয়াট বলেছে। বৃহস্পতিবার সিউলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি চিঠি পাঠাবে। তাতে বলা হবে, উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনেই বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং এটি কোরীয় যুদ্ধের যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।
মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ব্রিফিংয়ে বলেন, চিঠিতে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকাতে আলোচনার আহ্বান থাকবে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং আলোচনা পুনরায় শুরুতে অস্বীকৃতি জানালেও এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে শত্রু রাষ্ট্র আখ্যা দিলেও লি কূটনৈতিক যোগাযোগ ও উত্তেজনা হ্রাসের নীতি অনুসরণ করছেন। গত বছর তার প্রশাসন দক্ষিণ কোরিয়ার লাউডস্পিকার সম্প্রচার বন্ধ করে এবং সীমান্তের স্থায়ী লাউডস্পিকার সরিয়ে ফেলে। সিউল একে আস্থা তৈরির মূল পদক্ষেপ বলেছিল। এরপর উত্তর কোরিয়াও দক্ষিণমুখী নিজেদের সম্প্রচার স্থগিত করে।
সিউলের কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেন, কিমের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির অর্থ এই নয় যে লাউডস্পিকার তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় করা হবে। তবে তিনি বলেন, এটি লি প্রশাসনকে বিশাল উভয়সংকটে ফেলেছে। শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের নীতি বজায় রাখা এবং সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসী সামরিক তৎপরতা ঠেকানোর মধ্যে বেছে নিতে হচ্ছে সরকারকে।
সূত্র: রয়টার্স
সৌদি আরবে ছয় মাসে ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
‘মাদার অব অল বম্বস’-এর পাল্টায় এবার ‘ফাদার অব অল বম্বস’ আনছে ইরান
এবার ময়ূখের কণ্ঠে উল্টো সুর, প্রশংসায় ভাসালেন বাংলাদেশকে