ফ্রান্সে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেলওয়ে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ধর্মঘটের কারণে মোট ট্রেনের ৬০ শতাংশ মাত্র চলাচল করবে। শ্রম আইন সংস্কারের প্রতিবাদে শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই এ ধর্মঘটের সূচনা হলো।
ফরাসি সরকার মে মাসে তাদের বিতর্কিত শ্রম আইন পার্লামেন্টের মাধ্যমে কার্যকর করে। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছে দেশটির শ্রমিক ইউনিয়নগুলো। শ্রম সংশোধন বিলে মালিক পক্ষকে মজুরি কমানোর স্বাধীনতা দেওয়া ছাড়াও সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টা কাজকে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সাপ্তাহিক ৪৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বর্ধিত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিক আন্দোলনের মুখে তেলের অভাবে থাকা দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়তে পারে।
ফ্রান্সের বামপন্থী প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোঁয়া ওলাঁদে জানিয়েছেন, কোনওমতেই এই বিল প্রত্যাহার করা হবে না। সে প্রেক্ষিতে বিরোধী দলীয় রাজনীতিবিদ নিকলাস সারাকোজে দাবি করেছেন ওলাঁদে প্রথম থেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছেন।
শ্রমিক আন্দোলনের মুখে ফ্রান্সে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি শোধনাগার গুলো বন্ধ থাকায় জ্বালানী তেলের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে এই সপ্তাহ থেকে দেশটির বিমানের পাইলটরাও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। এর পাশাপাশি এখন ট্রেনের শ্রমিকরাও আন্দোলন শুরু করায় দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়বে। এদিকে আন্দোলনের কারণে দেশটির ৮টি তেল শোধনাগারের মধ্যে ৬টি বন্ধ রয়েছে।
এরআগে চলমান শ্রমিক আন্দোলনে এবার শামিল হন দেশটির পরমাণু শক্তি প্লান্টের শ্রমিকেরা। দেশটির শ্রমসংস্কার আইনের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনে বৃহস্পতিবার থেকে অংশ নেন তারা। সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে দ্য সিজিটি ইউনিয়নের (জেনারেল কনফেডারেশন অব মেম্বারস) বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দেশটির ১৯ টি পরমাণু কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টি তাদের কাজ একদিন বন্ধ রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের ডাকও দিয়েছে সিজিটি ইউনিয়ন।
উল্লেখ্য, ভোট ছাড়াই কেবলমাত্র সাংবিধানিক নীতিকে অবলম্বন করে ফরাসি পার্লামেন্টে শ্রমআইন সংস্কার করা হয়। সংস্কারকৃত শ্রমআইনের কারণে এখন থেকে সহজেই নিয়োগ ও ছাঁটাই করতে পারবে মালিকরা। এ নিয়ে তাদেরকে তেমন কোনও ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হবে না। ফরাসি সরকারের দাবি, এর মধ্য দিয়ে তাদের কর্মসংস্থান খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে তা মানছেন না শ্রমিকরা। তারা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে তাদের জীবিকাকে আরও অনিশ্চিত করে তোলা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
/ইউআর/এএ/







