X
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২
১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

ইউক্রেনীয় বিজয় উদযাপনে প্রস্তুতির সময় কি এসে গেলো?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২০:৫০আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:০১

গত ছয় দিন ধরে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা লাইনের সম্মুখভাগ ভেঙে ফেলেছে, আরও পূর্বদিকে এগিয়েছে তারা, দখলকৃত একের পর এক শহর পুনরুদ্ধার করেছে। বালাক্লিয়া দিয়ে শুরু, এরপর কুপিয়ানস্ক, তারপর ইজিউম। এর মধ্যে ইজিউম শহরটি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ রুটে পড়েছে। বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে এই শহরগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে এই জায়গাগুলোতে পৌঁছানোর উপায় ছিল না, সেখানকার ইউক্রেনীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় ছিল না। ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণে কয়েক দিনের মাথায় অস্ত্র-গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম রেখে পালিয়েছে রুশ সেনারা। এখানেই থেমে নেই ইউক্রেনীয়রা। ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলকৃত ডনেস্ক শহরতলী পুনরুদ্ধারে লড়াই করছে। সোমবার তারা দাবি করেছে, তারা রুশ সীমান্ত পর্যন্ত ইউক্রেনীয় সেনারা পৌঁছে গেছে।

এই অগ্রগতির অনেক কিছুই অপ্রত্যাশিত। বিশেষ করে এলাকা। কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনীয়রা জোরেশোরে দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসনে পাল্টা আক্রমণ শুরুর কথা বলে আসছিল। ইউক্রেনের কৌশল নয়, রাশিয়ার পাল্টা পদক্ষেপ অনেককেই অবাক করেছে। এমনকি ইউক্রেনীয়রাও অবাক হয়েছে। রবিবার সকালে কিয়েভে ইউক্রেনীয় সশস্ত্রবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফ লে. জেনারেল ইয়েভহেন মইসিউক বলেন, ‘আমাদের যা অবাক করেছে তা হলো রুশ সেনারা পাল্টা লড়াই করছে না’।

ইউক্রেনীয় পাল্টা আক্রমণ প্রতিহতের চেষ্টা করছে না রুশ সেনারা। এর চেয়ে বড় কথা হলো, তাদের হয় লড়াই, না হয় পালানো বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের অনেকেই যত দ্রুত সম্ভব রণক্ষেত্রে ছেড়ে দৌড়ে পালিয়েছে। বেশ কয়েক দিন ধরে সেনা সদস্য ও অন্যরা পরিত্যক্ত সামরিক যান ও সরঞ্জামের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছিলেন। কোনও কোনও ভিডিওতে পরিত্যক্ত গাড়ির সারি দেখা গেছে। সম্ভবত এগুলো রাশিয়াকে সহযোগিতাকারী ইউক্রেনীয়দের। যারা দখলকৃত এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

ইউক্রেনীয় জেনারেল স্টাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ সেনাদের তাদের উর্দিও ফেলে যাচ্ছে। তারা বেসামরিক পোশাক পরে রুশ ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা একটি হটলাইন স্থাপন করেছে। এই হটলাইনে রুশ সেনারা ফোন করে আত্মসমর্পণ করতে পারবে। বেশ কয়েকজন রুশ সেনার ফোনালাপের রেকর্ডিংও প্রকাশ করেছে তারা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই বাহিনীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো ইউক্রেনীয় সেনারা নিজেদের দেশের অস্তিত্বের জন্য লড়াই করছে। আর রুশ সেনারা লড়াই করছে বেতনের জন্য। যা শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। অবশ্য, এই পার্থক্যই যথেষ্ট নয়। ইউক্রেনীয়রা সেনারা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হতে পারে। কিন্তু রুশদের এখনও অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত বেশি। তারা এখনও বেসামরিকদের দুর্দশায় ফেলতে পারে। যেমনটি তারা রবিবার খারকিভের ইলেক্ট্রিক গ্রিড ও পূর্ব ইউক্রেনের অন্যান্য স্থানে হামলা চালিয়ে দেখিয়েছে।

রাশিয়ার সামনে আরও বেশ কিছু নৃশংস ও নির্মম পন্থা বেছে নেওয়ার সুযোগ এখনও উন্মুক্ত আছে। ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনও রণক্ষেত্রের ভেতরে রয়েছে। রাশিয়া প্রচারণাকারীরা যুদ্ধের শুরু থেক্ পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আলোচনা তুলে আসছেন। যদিও উত্তরে রুশ সেনারা লড়াই করছে না। কিন্তু দক্ষিণে এখনও তারা ইউক্রেনের আক্রমণ প্রতিহত করছে।

যুদ্ধের ২০০ দিনের বেশি পার হলেও লড়াই এখনও যেকোনও দিকে মোড় নিতে পারে। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঘটনাগুলো ইউক্রেনের মিত্রদের পুনরায় ভাবাতে বাধ্য করবে। নতুন একটি বাস্তবতা তৈরি হয়েছে: ইউক্রেন এই যুদ্ধে বিজয়ী হতে পারে। ইউক্রেনীয় বিজয়ের জন্য পশ্চিমারা প্রস্তুত কিনা? এর ফলে কী পরিবর্তন আসতে পারে?

 

রুশ আক্রমণের শুরুর দিকে মার্চের দিকে ইউক্রেনের সম্ভাব্য বিজয়ের কথা বড় গলায় কেউ খুব একটা বলেননি। তবু ইউক্রেনের জয় মানে দেশটির সার্বভৌম থাকা, নিজেদের নেতা নির্বাচন ও চুক্তির অধিকার বহাল থাকা। কিন্তু ছয় মাস পর ইউক্রেনের যুদ্ধে জয়ে নতুন পরিবর্তিত পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভ বলেছেন, ইউক্রেনের জয়ের অর্থ ক্রিমিয়াসহ ১৯৯১ সালের সীমান্তে শুধু ফিরে যাওয়া নয়, পূর্ব ইউক্রেনের পুরো ডনবাস অঞ্চল ফিরে পাওয়া নয়, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায় ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিপীড়িতদের ন্যায়-বিচার নিশ্চিত করা।

যেকোনও বিচারে এসব দাবি আপত্তিকর বা চরম কিছু নয়। এই যুদ্ধ কখনোই ভূখণ্ড নিয়ে ছিল না। কিন্তু গণহত্যার অভীপ্সায় এই আক্রমণ শুরু করা হয়। দখলকৃত ভূখণ্ডে বেসামরিকদের নিপীড়ন ও হত্যা করেছে রাশিয়া, গ্রেফতার ও রাশিয়ার পাচার করা হয়েছে হাজারো ইউক্রেনীয়দের। ধ্বংস করা হয়েছে থিয়েটার, জাদুঘর, স্কুল, হাসপাতাল। রণক্ষেত্র থেকে বহুদূরের আবাসিক এলাকাতেও ফেলা হয়েছে বোমা। এসব হামলায় বেসামরিকদের হত্যা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিলিয়ন ডলারের ইউক্রেনীয় সম্পত্তি। ফলে ইউক্রেনের জন্য ভূমি ফিরে পাওয়াই যথেষ্ট না, বিপর্যয়কর এই আক্রমণের ক্ষতিপূরণ আদায় করাও তাদের জন্য জরুরি।

পারমাণবিক শক্তিধর রাশিয়ার অনিশ্চয়তা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। তবে এই অনিশ্চয়তা এড়ানোর সুযোগ নেই পশ্চিমাদের। শনিবার ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ভয় না পাওয়া আমরা শিখে গেছি। এখন আমরা অন্যদেও বলছি ভয় পাবেন না।

সূত্র: দ্য আটলান্টিক

/এএ/
প্রস্থানের দুই বছর: শিল্পকলায় অবিনশ্বর আলী যাকের
মৃত্যুদিনে স্মরণপ্রস্থানের দুই বছর: শিল্পকলায় অবিনশ্বর আলী যাকের
পূর্ণ সক্ষমতায় ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছে রামপাল
পূর্ণ সক্ষমতায় ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছে রামপাল
এমবাপ্পের জোড়া গোলে নকআউটে ফ্রান্স
এমবাপ্পের জোড়া গোলে নকআউটে ফ্রান্স
আবারও নাসিমের অনুসারীদের পেটালো বিএনপির সমর্থকরা
আবারও নাসিমের অনুসারীদের পেটালো বিএনপির সমর্থকরা
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব কমবে ৪০ কিমি
ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব কমবে ৪০ কিমি
পোল্যান্ডের জয়ে আরও চাপে মেসিরা
পোল্যান্ডের জয়ে আরও চাপে মেসিরা
কুমিল্লার সমাবেশস্থলে হারানো ফোনের সন্ধান দিলে পুরস্কার ২০ হাজার
কুমিল্লার সমাবেশস্থলে হারানো ফোনের সন্ধান দিলে পুরস্কার ২০ হাজার
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় কারাগারে স্বামী
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় কারাগারে স্বামী
ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো ন্যাটো
ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো ন্যাটো