রাশিয়ার আধাসামরিক নেতা ইয়েভজেনি প্রিগোজিন বিদ্রোহ করার পর মস্কো অভিমুখে পদযাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টা মধ্যে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিষেবা মহাকাশ বাহিনীর প্রধান জেনারেল সের্গেই সুরোভিকিনসহ বেশ কয়েকজন উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে আটক করা হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। কয়েকটি সূত্রের বরাতে তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ায় বোমা হামলা চালানোর জন্য জেনারেল আরমাগেডন নামে পরিচিত সুরোভিকিনকে মস্কোতে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এতে বলা হয়েছে, সুরোভিকিনের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। সুরোভিকিন বিদ্রোহের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতেন। তবে তিনি বিদ্রোহে জড়িত ছিলেন না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ১৩ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১৫ সন্দেহভাজনকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়।
ক্রেমলিন বা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ ঘটনা কোনও মন্তব্যের করতে রাজি হয়নি। রাশিয়ান পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান আন্দ্রেই কার্তাপোলভ চলতি সপ্তাহে রাশিয়ান সোশাল মিডিয়ায় প্রচারিত এক ভিডিওতে বলেছেন, সুরোভিকিন বিশ্রাম নিচ্ছেন, এই মুহুর্তে তাকে পাওয়া যাবে না।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সুরোভিকিনের ডেপুটি কর্নেল জেনারেল আন্দ্রে ইউদিন এবং সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভ্লাদিমির আলেক্সিয়েভকেও আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তাদের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের চলাচল সীমিত করে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।
আটক হওয়া অন্যান্যদের মধ্যে আছেন সাবেক কর্নেল জেনারেল মিখাইল মিজিনসেভ। তিনি আগে উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এপ্রিলের শেষের দিকে প্রিগোজিনের ওয়াগনার গ্রুপের প্রাইভেট মিলিটারি কোম্পানিতে তিনি যোগদান করেছিলেন।
সুরোভিকিনকে কোনও আটক কেন্দ্রে রাখা হয়নি। তবে তাকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা আসলে জানতে চাচ্ছে বিদ্রোহে তার কী ভূমিকা ছিল।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বলা হয়, পুতিন কীভাবে বিদ্রোহে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সুরোভিকিনকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল








