X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

কলকাতা পৌর নির্বাচনে বাম-কংগ্রেসের অদৃশ্য জোট!

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭:০৬

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি পশ্চিমবঙ্গে একুশের বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর বলেছিলেন, ‘বাম-কংগ্রেস জোট অতীত।’ বামফ্রন্টের মধ্যেও জোট নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিপিএমের সঙ্গ ত্যাগের হুমকি দিয়েছিল শরিক দলগুলো। চাপের মুখে সিপিএম জোটের রাস্তা ছেড়ে কলকাতা পৌর নির্বাচনে বামফ্রন্টগতভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে গোপনে বাম-কংগ্রেসের অদৃশ্য জোট গড়ার পরিকল্পনা চলছে! পৌরসভার ৩৩টি ওয়ার্ডে বাম-কংগ্রেসের অদৃশ্য জোটের প্রার্থীরা তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল হবেন। এমনটাই সূত্রের খবর।

গত বিধানসভা ভোটের পর কংগ্রেসের জোট ভেঙে উপনির্বাচনগুলোতে এককভাবে লড়াই করে বামদের ভোটের হার সামান্য বাড়ে। আর তাতেই উল্লসিত হয়ে সিপিএমের একাংশ এবং বাম শরিক দলগুলো বাংলায় ভোটের লড়াইয়ে ফের ‘একলা চলো রে’ নীতি আঁকড়ে ধরে রাখতে জোর সওয়াল করে। বামফ্রন্টের বৈঠকে এ নিয়ে তীব্র বাদানুবাদও হয়। কিন্তু বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, কলকাতার সবকটি ওয়ার্ডে প্রার্থীই দিতে পারেনি তারা। ১৬টি ওয়ার্ড ছেড়ে তারা প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। অপরদিকে, একই অবস্থা কংগ্রেসের। তারাও ১৯ টি ওয়ার্ডে প্রার্থী না দিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছে।

গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতায় পৌর নির্বাচনের ম্ভাবনা থাকলেও করোনা আবহে তা হয়নি।  সেই সময় ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে কংগ্রেস ৬২টি ওয়ার্ডের একটি তালিকা আলিমুদ্দিনকে দিয়েছিল। এর মধ্য থেকেই ৪০-৪৫টি ওয়ার্ডে লড়াই করতে চেয়েছিল কংগ্রেস।

সিপিএমের একাংশের মতে, কলকাতা পৌরসভার দুর্বল আসনগুলোর বদলে বাছাইকৃত ওর্য়াডগুলোতে প্রার্থী দিলে দলের পক্ষ থেকে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করা সম্ভব। এর পাশাপাশি প্রাপ্ত ভোটের হার এতে বাড়বে সামগ্রিক আসনের বিচারে। আর ঠিক এই জায়গা থেকেই জোটের সম্ভাবনা ফের দেখা দিয়েছে। বাছাইকৃত আসনের বাইরের ওয়ার্ডগুলো কংগ্রেসকে ছেড়ে দিলে ভালো ফলাফল হতে পারে।

কলকাতা জেলা বামফ্রন্ট আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, পৌর নির্বাচনে সবকটি ওয়ার্ডে প্রার্থী দেওয়া সম্ভব নয় বাম শিবিরের পক্ষ থেকে। সিপিএম-সহ সবকটি শরিক দল মিলে বড়জোর ১২৭টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দিয়ে লড়াই করার মতো অবস্থায় রয়েছে। বাকি ১৭টি ওয়ার্ডে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনও বাম শরিক দল আগ্রহ দেখায়নি। যে কয়টি ওয়ার্ডে বামফ্রন্টের প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়েছে, সেখানে সম্মানজনক ফল করার বিষয়টি নিয়ে চিন্তুাভাবনা শুরু করেছে সিপিএম। তাই বাছাইকৃত ওয়ার্ডে লড়াইয়ের চিন্তুা করা হয়েছে। এর ফলে ভোট প্রাপ্তির হিসাবকে একটা ভালো অবস্থানে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে আলিমুদ্দিন। আর সর্বত্র প্রার্থী দিলে, জেতার সম্ভবনাও থাকত না। উল্টো সামগ্রিক বিচারে ভোট অনেক কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতো।

প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে ,বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস উভয়েই বেশ কিছু ওয়ার্ডে তাদের গত পৌর নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দিয়ে ইতোমধ্যেই অদৃশ্য জোটের বার্তা দিয়েছে। ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেসের কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেসের প্রকাশ উপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও সিপিএম প্রার্থী দেয়নি। একইভাবে ১১১ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএমের কাউন্সিলর চয়ন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়নি কংগ্রেস। কিন্তু জোটের বিরুদ্ধে থাকা আরএসপি ও ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছে কংগ্রেস। ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডে আরএসপির প্রার্থী থাকার কথা ভেবে এখানে কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে।

সূত্রের খবর, এমন ৩৩ টি ওয়ার্ড রয়েছে যেখানে উভয় পক্ষের অদৃশ্য জোট রয়েছে। কারণ যে ওয়ার্ডে বামফ্রন্ট প্রার্থী দিতে পারেনি, সেখানে কাকে সমর্থন করা হবে? এ প্রশ্নটি সুজন চক্রবর্তীর কথায় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘যেখানে বামদের প্রার্থী নেই, সেখানে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস বা অন্য কোনও পক্ষের উল্লেখযোগ্য প্রার্থী যিনি থাকবেন, তাকে সমর্থন করা হবে।’ যেখানে কংগ্রেসের প্রার্থী নেই, সেটি নিয়ে একই সুরে কথা বলেছেন কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক কমিটির চেয়ারম্যান নেপাল মাহাত। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, তৃণমূল ও বিজেপির বিরোধিতা। যেখানে কংগ্রেসের প্রার্থী নেই, সেখানে ওই দুই দলের বিরুদ্ধে থাকা শক্তিকেই আমরা সমর্থন করবো।’

রাজনৈতিক মহলের মতে, এককভাবে পৌর নির্বাচনে লড়াইয়ের ক্ষমতা বাম-কংগ্রেস কারোরই নেই। অথচ, জোট নিয়েও চরম বিরোধিতা রয়েছে বামফ্রন্টে। তাই সিপিএম সরাসরি জোটের কথা না বলে অদৃশ্য জোটের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করছে। দুই দলের নেতাদের বক্তব্যেই সাফ বোঝা যাচ্ছে বিষয়টি।

/এমপি/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বাংলাদেশি উদ্ভাবন চালু হলো ইয়েমেনে
বাংলাদেশি উদ্ভাবন চালু হলো ইয়েমেনে
নজরুলজয়ন্তীতে ‘উন্নত মম শির’
নজরুলজয়ন্তীতে ‘উন্নত মম শির’
‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে শস্য সরবরাহে ভয়ঙ্কর ঘাটতি দেখা দেবে’
‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে শস্য সরবরাহে ভয়ঙ্কর ঘাটতি দেখা দেবে’
র‌্যাব অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক রনি
র‌্যাব অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক রনি
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তাইওয়ানকে রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপ: বাইডেন
তাইওয়ানকে রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপ: বাইডেন
ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক ইমরান খানের
ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক ইমরান খানের
প্রতিশোধের অঙ্গীকার ইরানের
প্রতিশোধের অঙ্গীকার ইরানের
হজযাত্রায় প্রভাব পড়বে না, বলছে ভারতের হজ কমিটি
ভারতসহ ১৬ দেশে সৌদি নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞাহজযাত্রায় প্রভাব পড়বে না, বলছে ভারতের হজ কমিটি