কাজের জন্য মরিয়া ছিলেন ৩৮ বছরের রুহুলুল্লাহ পারাজিদেহ। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা এবং তিন সন্তানের বাবা রুহুলুল্লাহ কাজের সন্ধানে স্থানীয় একটি ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে যান। এরা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী এবং তাদের পরিবারকে সহায়তা দিয়ে থাকেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রুহুলুল্লাহ ফাউন্ডেশন কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, সাহায্য না পেলে তিনি ছাদ থেকে লাফ দেবেন। তারা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, সামান্য ঋণের প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি রুহুলুল্লাহ।
তিনি দ্রুত ভবনের গেটে বেরিয়ে আসেন। গায়ে জ্বালানি ঢালেন আর ঘাড়ে ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে ধরেন। দুই দিন পর ২১ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
ইয়াসুজ শহরে রুহুলুল্লাহর আত্মহত্যায় ইরানের অনেকেই হতবাক। এর কারণ কেবল এটা নয় যে তিনি গুল মোহাম্মদ পারাজিদেহর ছেলে। ১৯৮০ থেকে ৮৮ পর্যন্ত ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের প্রাদেশিক বীর ছিলেন গুল মোহাম্মদ। ওই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
এই আত্মহত্যার ঘটনা ইরানের ডুবন্ত অর্থনীতি, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং খাদ্যদ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভকে সামনে এনেছে। ইরানের শহীদ এবং যুদ্ধাহত মানুষের জন্য গঠিত ফাউন্ডেশনের স্থানীয় কার্যালয়ের বাইরে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। এই সম্পদশালী এবং সরকারি ফাউন্ডেশনটি ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামিক বিপ্লব এবং পরবর্তী যুদ্ধে নিহত ও আহত এবং তাদের পরিবারকে সহায়তা দিয়ে থাকে।
তেহরানের বেহেস্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিনা আহমাদি বলেন, ‘খবরটি শুনে আমি হতবাক হয়ে পড়ি। আমি ভাবতাম (যুদ্ধে) আক্রান্ত পরিবারগুলো সরকারের উদার সহায়তা পেয়ে থাকে।’
ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধে নিহতদের গৌরবান্বিত করে থাকে ইরান। আর এতে বড় ভূমিকা রাখে ফাউন্ডেশনটি। বিপ্লবের পর ফাউন্ডেশনটি পেনশন, ঋণ, আবাসন, শিক্ষা এবং এমনকি উচ্চ পর্যায়ের কিছু সরকারি চাকরির ব্যবস্থাও করে থাকে।
রুহুলুল্লাহর আত্মহত্যার পর ফাউন্ডেশনটি তাদের প্রাদেশিক কার্যালয়ের শীর্ষ দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত মানুষটিকে হাসপাতালে নিতে বা অন্য সহায়তা দিতে ব্যর্থতার জন্য গভর্নর কার্যালয়ের এক উপদেষ্টা এবং এক সমাজকর্মীকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছে।
এই আত্মহত্যার ঘটনা সরকারের উচ্চ পর্যায়েও নাড়া দিয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির উপদেষ্টা আয়াতুল্লাহ শরফেদ্দিন বলেছেন, বেকারত্ব, দারিদ্র্য এবং সামাজিক বন্ধন ছিন্ন হওয়া ঠেকাতে এই ঘটনা কর্মকর্তাদের জন্য এক সতর্ক সংকেত হওয়া উচিত।
সূত্র: এপি








