ইরানের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ৮৩ দশমিক ৭ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম কণা খুঁজে পেয়েছেন আন্তর্জাতকি আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পরিদর্শকরা। অস্ত্র তৈরির জন্য যে পরিমাণ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন এই হার তার খুব কাছাকাছি। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য ইরানের সঙ্গে সংস্থাটি আলোচনা করছে।
ইরান বলেছেন, সমৃদ্ধকরণের মাত্রায় অনিচ্ছাকৃত ওঠানামার হয়ত ঘটেছে।
গত দুই বছর ধরে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রকাশ্যে সমৃদ্ধকরণ করছে ইরান। যা ২০১৫ সালে বিশ্বের পরাশক্তিদের সঙ্গে সাক্ষরিত চুক্তির লঙ্ঘন। ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে।
এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া। এতে দেশটির পারমাণবিক কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ রাখা হয় এবং আইএইএ পরিদর্শকরা নিয়মিত নজরদারি চালাতেন।
ইরান চুক্তি মেনে চললে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরতে চায়। কিন্তু ভিয়েনাতে চুক্তি নিয়ে পরোক্ষা আলোচনা প্রায় এক বছর ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে।
কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘণত্ব সাধারনত ৩-৫ শতাংশ থাকে। এগুলো বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎক্ষেত্রে জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়। উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরিয়াম ২০ শতাংশ বা তার বেশি বিশুদ্ধ। এগুলো গবেষণামূলক চুল্লিতে ব্যবহার করা হয়। অস্ত্র নির্মাণে ৯০ শতাংশ বা তার বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়।
আইএইএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারির শেষ দিকে ফরডো স্থাপনা থেকে ৮৩ দশমিক ৭ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কণার নমুনা নেওয়া হয়েছে।
ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি এই অনুসন্ধানকে খুব বড় কিছু বলে মনে করেন না। তিনি বলেছেন, এই নমুনা একটি কণা। যা এমনকি অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও দেখা যায় না।
ইরান দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি লঙ্ঘনের ফলে তাত্ত্বিকভাবে অস্ত্র তৈরির মতো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করতে পারবে ইরান। যদি ইরান চায় তাহলে বোমা বানাতে পারবে।









