X
বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪
২ শ্রাবণ ১৪৩১

হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরায়েলের আয়রন ডোম ব্যর্থ হতে পারে: শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ জুন ২০২৪, ১৯:০৭আপডেট : ২৩ জুন ২০২৪, ১৯:৪০

লেবাননের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যেকোনও সর্বাত্মক যুদ্ধে প্রথম আঘাতে বিপর্যস্ত হতে পারে ইসরায়েলের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এমনটিই আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বিষয়ে তারা সতর্কতার কথাও জানিয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনায় এই শঙ্কার কথা উঠে এসেছে। নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে তা ২০০৬ সালের বিধ্বংসী দ্বিতীয় লেবানন যুদ্ধের চেয়েও বেশি ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়ানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। কারণ সীমান্তে বেড়ে ওঠা উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি গোলাগুলি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে পরিণত হওয়ার শঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

শুক্রবার কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নাগরিকদের লেবানন ভ্রমণ না করার সতর্কতা দিয়েছে। যারা লেবাননে আছেন তাদেরও দেশে ফেরার পরামর্শ দিয়েছে কুয়েত। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে, যুদ্ধে পরিণত হলে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সহায়তা দেবে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এর মধ্যেই সম্ভাব্য বিধ্বংসী ফলাফল এড়ানোর জন্য ‘বিবেক ও যুক্তি’ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

২০০৬ সাল থেকে বিশ্বের সেরা সজ্জিত অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত হিজবুল্লাহ তাদের অস্ত্রাগারের মজুত বাড়িয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আত্মঘাতী ড্রোন, বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ক্ষেপণাস্ত্র।

হিজবুল্লাহ প্রধান সায়্যিদ হাসান নাসরাল্লাহ বলেছেন, তার গোষ্ঠী ১ লাখ সশস্ত্র যোদ্ধার ওপর নির্ভর করতে পারে। যদিও ধারণা করা হয়, তাদের মূল সামরিক শক্তি সম্ভবত নাসরাল্লারহ দাবি করা যোদ্ধার এক-তৃতীয়াংশ। তবে এসব যোদ্ধার অনেকেই সিরিয়ায় যুদ্ধের অভিজ্ঞতা লাভ করেছে।

হিজবুল্লাহর বৃহৎ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত এবং এগুলোর ব্যবহার সংক্রান্ত অভিযানিক কৌশল ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাদের মজুতে প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি শত শত নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। যা শক্তিশালী বাংকার এবং ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার থেকে নিক্ষেপ করা যায়।

হিজবুল্লাহর ক্রমবর্ধমান ড্রোনের ব্যবহার, বিশেষ করে আত্মঘাতী ড্রোনগুলো ইসরায়েলের বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসরায়েলের রাইখম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্টার-টেরোরিজম ইনস্টিটিউটের একটি তিন বছরব্যাপী গবেষণায় উঠে এসেছে, হিজবুল্লাহ দিনে প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম। যা তারা তিন সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে পারবে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান লক্ষ্য হবে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ইসরায়েলি জনগণ ও নেতৃত্বের একটি বড় অংশের প্রত্যাশা হলো, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী এবং কার্যকর ইসরায়েলি গোয়েন্দা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে সফল হবে। ইসরায়েলি প্রতিশোধের হুমকি বা লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় আকারের হামলা হিজবুল্লাহকে হামলা বন্ধ করতে বা ইসরায়েলি ভূখণ্ডে তাদের আক্রমণ সীমিত করতে বাধ্য করতে পারে।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক পর্যালোচনা অনুসারে, হিজবুল্লাহর রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র খুঁজে বের করে ধ্বংস করার জন্য বিশাল অনুসন্ধান ও হামলা প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে, যা মূলত চাপ প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে এবং ইসরায়েলি জনবসতিতে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে যুদ্ধের প্রতি ইসরায়েলি সমর্থন দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে হিমশিম অবস্থায় পতিত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা প্রতিহত করা।

সংস্থাটির বিশ্লেষক সেথ জি জোন্স বলেন, উত্তর দিক থেকে আসা বিস্তৃত রকেট ভাণ্ডার মোকাবিলা করা ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য একটি কঠিন কাজ হবে।

তার এই মন্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার সতর্কবার্তার। বাইডেন প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছিলেন, আমাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, অন্তত কিছু আয়রন ডোম ব্যাটারি প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হবে। সিএনএন আরও জানিয়েছিল, ইসরায়েল উত্তরে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মোতায়েন করছে।

ইসরায়েলের প্রায় ১০টি আয়রন ডোম ব্যাটারি রয়েছে। প্রতিটি চারটি লঞ্চার নিয়ে গঠিত। এগুলো রাডার সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। কিন্তু যেকোনও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতোই একসঙ্গে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করার সীমাবদ্ধতা এই ব্যবস্থাতেও রয়েছে।

হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ইসরায়েলের বেসামরিক সুরক্ষার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। যুদ্ধ শুরু হলে ব্যাপক প্রাণহানি মোকাবিলার পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। অনেকে মনে করেন, ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ঝুঁকি পুরোপুরি বুঝতে পেরেছে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

গত সপ্তাহে একটি সম্মেলনে ইসরায়েলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নোগার প্রধান শাউল গোল্ডস্টেইন সতর্ক করে বলেন, আমরা প্রকৃত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নই। আমার মনে হয়, আমরা একটি কল্পনার জগতে বাস করছি।

তিনি আরও বলেছেন, বিদ্যুৎ না থাকলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েল ‘বসবাসের অযোগ্য’ হয়ে উঠবে। আমাদের অবকাঠামো, অপটিক্যাল ফাইবার, বন্দর এবং সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে না গিয়েও বলবো—আমরা ভালো অবস্থানে নেই।

যদিও তিনি পরে রেডিও সাক্ষাৎকারের এই মন্তব্য কিছুটা সংশোধন করেন।

এদিকে, গাজা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুসারে, হামাসের একজন উচ্চপদস্থ কমান্ডারকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।

হামলায় আল-শাতি এলাকার বিচ ক্যাম্প এবং আল-তুফফা জেলায় বোমাবর্ষণে ৩৮ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন হামাস-পরিচালিত মিডিয়া অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা হামাসের ‘সামরিক অবকাঠামো’-কে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

/এএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা কমিয়ে অর্ধেক করবে জার্মানি
হরিয়ানায় অগ্নিবীরদের জন্য পুলিশ ও খনিরক্ষীর চাকরিতে ১০ শতাংশ কোটার ঘোষণা
তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে যা জানা গেলো
সর্বশেষ খবর
জবি ক্যাম্পাস আন্দোলনকারীদের দখলে, মূল ফটকে ‘ছাত্রলীগ প্রবেশ নিষেধ’ বিজ্ঞপ্তি
জবি ক্যাম্পাস আন্দোলনকারীদের দখলে, মূল ফটকে ‘ছাত্রলীগ প্রবেশ নিষেধ’ বিজ্ঞপ্তি
৬ শিক্ষার্থী হত্যায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি বিরোধীদলীয় নেতার
৬ শিক্ষার্থী হত্যায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি বিরোধীদলীয় নেতার
ছারছীনার পীরের মৃত্যুতে ধর্মমন্ত্রীর শোক
ছারছীনার পীরের মৃত্যুতে ধর্মমন্ত্রীর শোক
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতিসহ ৭ জন রিমান্ডে
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতিসহ ৭ জন রিমান্ডে
সর্বাধিক পঠিত
সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা
সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা
কী আছে ড. জাফর ইকবালের মূল লেখায়
কী আছে ড. জাফর ইকবালের মূল লেখায়
ছাত্রলীগের ১৫ কর্মীকে ছয়তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ
ছাত্রলীগের ১৫ কর্মীকে ছয়তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ
রোকেয়া হল ছাত্রলীগের নেত্রীর কক্ষে হামলা, মারধর
রোকেয়া হল ছাত্রলীগের নেত্রীর কক্ষে হামলা, মারধর
ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করলেন আরেক নেতা, লিখলেন ‘আর পারলাম না’
ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করলেন আরেক নেতা, লিখলেন ‘আর পারলাম না’