৬০ দিনের মধ্যে নিরস্ত্রীকরণে ইসরায়েলের আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৩আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৩

গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের দেওয়া ৬০ দিনের মধ্যে নিরস্ত্রীকরণের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েলের মন্ত্রীপরিষদ সচিব ইয়োসি ফুকস সম্প্রতি ৬০ দিনের মধ্যে হামাস অস্ত্রত্যাগ না করলে গাজায় পুনরায় হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে হুশিয়ারি দিলে হামাসের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা এসেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়োসি ফুকস সোমবার জেরুজালেমে এক সম্মেলনে বলেন, হামাসকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সব ধরনের অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, এই সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের অনুরোধে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফুকস উল্লেখ করেন যে, এই মেয়াদ সম্ভবত আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি বোর্ডের প্রথম সভা থেকে শুরু হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি এই প্রক্রিয়া সফল হয় তাহলে ভালো;অন্যথায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের মিশন সম্পন্ন করতে বাধ্য হবে।”

হামাসের সিনিয়র কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাউই আল জাজিরাকে জানান, এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক দাবি বা সময়সীমা তাদের কাছে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলি মিডিয়ার মাধ্যমে দেওয়া এসব বক্তব্য নিছক হুমকি মাত্র, চলমান আলোচনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।” মারদাউই আরও সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরুর যেকোনো প্রচেষ্টা এই অঞ্চলে গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণ কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।

গাজায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় চলছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরু হয় এবং মধ্য জানুয়ারি থেকে এর দ্বিতীয় ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ,আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। হামাস স্পষ্ট জানিয়েছে যে,গাজায় ইসরায়েলি দখলদারত্ব অব্যাহত থাকা অবস্থায় তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না। হামাসের বিদেশী নেতা খালেদ মিশাল সম্প্রতি বলেছেন, দখলদারত্বের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের নিরস্ত্র করা তাদেরকে সহজ শিকারে পরিণত করবে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গাজায় অভিযানে ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে হাজার হাজার শিশু। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে। গাজা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর ৬০০’র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং ১,৫২০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছে। গাজায় খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও আশ্রয় উপকরণ প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ১৫ লাখ গৃহহীন শরণার্থীসহ  প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি চরম মানবিক সংকটের মধ্যে বসবাস করছে।

/এমবিএম/
সম্পর্কিত
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
সর্বশেষ খবর
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী