সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং ইসলামি আইনের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে ‘জনসাধারণের নৈতিকতা’ রক্ষার অজুহাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের ওপর কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে সৌদি আরব। এর ফলে একদিকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে, অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি বছর দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই বিদেশি নাগরিক।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি সৌদি আরব। ২০২৫ সালে দেশটিতে ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল, যা কেবল চীন ও ইরানের পরই সর্বোচ্চ।
গত সপ্তাহে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট আনুজন সিভরাসা (২৭) নামের এক শ্রীলঙ্কান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে। তার বিরুদ্ধে ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
শ্রীলঙ্কার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমাচন্দ্র এই মৃত্যুদণ্ড বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুদণ্ড বাতিল হলেও ওই তরুণ এখনো কারাগারে রয়েছেন; তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৮ লাখ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হয়েছে।
একই সপ্তাহে মসজিদ প্রাঙ্গণে ‘অশালীন কর্মকাণ্ড’-এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে বাংলাদেশি এক পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। তবে ওই দুই বাংলাদেশি ঠিক কী ধরনের অপরাধ করেছিলেন কিংবা তাদের কোনও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে রিয়াদ বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই