অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে হামলা প্রতিহত করার পর পুরো পশ্চিম তীরে ‘পূর্ণ লকডাউনের’ নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে এ নির্দেশ দেন তিনি। এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তেলেমের অবৈধ বসতির কাছে একটি রিজার্ভ সেনাদলের ওপর হামলাকারী দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীকে হত্যা করেছে তারা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে এ হামলা ও অবরোধের ঘটনা ঘটলো। সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের সহিংস হামলা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ইসরায়েলের নির্বাচন সামনে রেখে জলপাই সংগ্রহকারীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী একটি ‘বড় ধরনের হামলা’ ঠেকিয়েছে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহু জানান, তিনি অবিলম্বে হেবরন বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ‘আজ থেকে পুরো জুদিয়া ও সামারিয়ায়’পূর্ণ লকডাউনের প্রস্তুতি নিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এর আগে ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছিল, ইসরায়েলি নম্বরপ্লেটযুক্ত একটি গাড়িতে থাকা দুই ফিলিস্তিনি হেবরনের আশপাশে থাকা বহু সামরিক চেকপোস্টের একটির কাছে সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
ইসরায়েলের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রায় ২০ মিনিট ধরে গোলাগুলি চলে। এতে আহতদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রকাশিত ছবিতে সংঘর্ষের সময় এক ব্যক্তির হাতে হ্যান্ডগান দেখা গেছে। পরে তাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়, তার চারপাশে ছিলেন ইসরায়েলি সেনারা।
পরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দুই ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করে এবং হেবরন শহর অবরুদ্ধ করে বলে খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর নির্বাচনী প্রচারসংক্রান্ত কয়েকটি কর্মসূচি বাতিল করেন নেতানিয়াহু।
এদিকে, ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই সংঘর্ষের পর পশ্চিম তীরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে বেন-গভির বলেন, ‘অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বিলুপ্ত ও নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে এবং তাদের সন্ত্রাসী অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে’।
অন্যদিকে, হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ ও পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি) সামরিক চৌকিতে হামলার প্রশংসা করেছে। তাদের দাবি, ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং গাজায় যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এ হামলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনগুলো ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে সংঘাত আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।
জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা