ইসরায়েলি বোমায় জিম্মিদের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেন সাবেক সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:২৯ আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:৩১

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে জিম্মি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান হারজি হালেভি।

রবিবার নিউ ইয়র্কে ‘শুরাত হাশিন’ গ্রুপ আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় হারজি হালেভি দাবি করেন, গাজায় সামরিক ‘চাপ’ জিম্মিদের মুক্ত করতে সাহায্য করেছিল। তবে সেই সঙ্গে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতেও কয়েকজন জিম্মি নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বোমায় জিম্মিরা নিহত হয়েছে। তারা সেখানে ছিল বলে আমরা জানতাম না’।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার সময় মোট ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। পরবর্তীতে হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে অধিকাংশকেই জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়। তবে প্রায় ৮৭ জন জিম্মি গাজায় বন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন কিংবা ইতোমধ্যেই নিহত হওয়ার পর তাদের লাশ সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

এর আগে জিম্মিরা সামরিক হামলায় নিহত হয়েছে বলে ওঠা অভিযোগগুলো ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সবসময় এড়িয়ে গেছে এবং এর পরিবর্তে হামাসকে তাদের হত্যার জন্য অভিযুক্ত করেছে। তবে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলি পত্রিকা ‘মারিভ’ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রিপোর্ট করেছিল, ‘বিশেষ করে যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ইসরায়েলি হামলায় বহু জিম্মি নিহত হয়েছিল’।

৭ অক্টোবরের হামলার দিন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘হ্যানিবল নির্দেশিকা’ প্রয়োগ করেছিল। এটি এমন একটি বিতর্কিত সামরিক আদেশ যা ইসরায়েলি সেনাদের বন্দি হওয়া ঠেকাতে তাদের হত্যা করার ঝুঁকি নিয়েও প্রয়োগ করা হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামাসের হামলার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে এই নির্দেশিকা প্রয়োগ করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী।

গত বছর সেনাপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করা হালেভি রবিবার এটিও স্বীকার করেন যে, ৭ অক্টোবরের হামলাটি ‘এমন একটি ব্যর্থতা ছিল যা প্রতিরোধ করা যেত’। তবে এটি কোনও অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতার ফলে ঘটেছিল এমন ধারণা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, হামাসকে সাহায্য করার জন্য শুধু একজন ব্যক্তির সহযোগিতা যথেষ্ট নয়, বরং একটি বড় নেটওয়ার্কের প্রয়োজন। তিন বছর পার হয়ে গেলেও এই ধরনের একজন মানুষকেও পাওয়া যায়নি।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

/এএস/ 
সম্পর্কিত
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জিতলে কী করবেন, জানালেন ট্রাম্প
দ. কোরিয়া সফরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পর্কে নজর এরদোয়ানের
ইরান যুদ্ধের ‘বলির পাঁঠা’ খুঁজছেন ট্রাম্প, কপাল পুড়বে কার?
সর্বশেষ খবর
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জিতলে কী করবেন, জানালেন ট্রাম্প
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জিতলে কী করবেন, জানালেন ট্রাম্প
এটা কোন বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে, শ্রমিক বিক্ষোভে পরাজিত শক্তির ইন্ধন আছে: রিজভী
এটা কোন বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে, শ্রমিক বিক্ষোভে পরাজিত শক্তির ইন্ধন আছে: রিজভী
এক মাসের ব্যবধানে আবারও বাড়লো এলপিজির দাম
এক মাসের ব্যবধানে আবারও বাড়লো এলপিজির দাম
আন্দোলনের পরিবর্তে বিরোধী দলকে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান চিফ হুইপের
আন্দোলনের পরিবর্তে বিরোধী দলকে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান চিফ হুইপের
সর্বাধিক পঠিত
সঙ্গী খুঁজতে অবিবাহিতদের বিনামূল্যে ফিনল্যান্ড ভ্রমণের সুযোগ
সঙ্গী খুঁজতে অবিবাহিতদের বিনামূল্যে ফিনল্যান্ড ভ্রমণের সুযোগ
সিএনজি অটোরিকশায় ব্যানার লাগিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মাইকিং
সিএনজি অটোরিকশায় ব্যানার লাগিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মাইকিং
এইচএসসি পাস করলো জেলা ছাত্রদল সভাপতির ছেলে, সমালোচনার মুখে কমিটি বিলুপ্ত
এইচএসসি পাস করলো জেলা ছাত্রদল সভাপতির ছেলে, সমালোচনার মুখে কমিটি বিলুপ্ত
এআই দিয়ে জীবিত দেখিয়ে ৪ লাখ মুক্তিপণ আদায়: সেই রাকিব পেলেন জিপিএ-৫, বাড়িতে কুলখানি
এআই দিয়ে জীবিত দেখিয়ে ৪ লাখ মুক্তিপণ আদায়: সেই রাকিব পেলেন জিপিএ-৫, বাড়িতে কুলখানি
এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও নাজমুল ইসলাম
এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও নাজমুল ইসলাম