এখন আর জাতীয়তার গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতে চাইছে না মানুষ। সারা বিশ্বের সঙ্গেই সম্পর্ক অনুভব করছে তারা। চাইছে বিশ্বনাগরিক হতে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের জরিপে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এই প্রবণতার কথা। জরিপে দেখা গেছে, মূলত অর্থনৈতিক কারণেই মানুষের মধ্যে জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত বোধ করার প্রবণতা বাড়ছে। ভারত-নাইজেরিয়া-চীন-পেরুসহ ১৮ টি দেশের ২০ হাজার মানুষের দেওয়া মতামতের ভিত্তিতে এই জরিপ পরিচালিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, আত্মপরিচয়ের ক্ষেত্রে বিশ্ব-নাগরিকত্বের ধারণাটি একটু জটিল। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের জন্য এই ধারণাটি তাই সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায় না বেঁধে উন্মুক্ত রাখা হয়। এতে দেখা যায়, কারও জন্য এই ধারণাটি অর্থনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। অনেকে আবার বিশ্বনাগরিকতার বোধকে চলমান বৈশ্বিক সংকটের আধ্যাত্মিক সমাধান হিসেবেও দেখতে চান। কেউ কেউ আবার বিশ্বনাগরিকত্ব বলতে বর্তমান সময়ে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তে সহজে যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার বিষয়টিকেও বুঝে থাকেন।
অনেকের কাছে আবার মনে হয়, অভিবাসনের কারণে বিশ্বনাগরিকতার ধারণার উত্থান হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম এত বেশি অভিবাসীর প্রবাহ তৈরি হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে। শুধুমাত্র যুদ্ধবিগ্রহের কারণে নয়, বরং বেড়ে যাওয়া সমৃদ্ধির কারণেও ইউরোপে শরণার্থীদের ঢল নেমেছে। বিমানপথে চলাচল উদীয়মান মধ্যবিত্তের জন্যও এখন সহজলভ্য। সবমিলে জাতীয়তার গণ্ডি অতিক্রম করছে মানুষ। আর তাই বিবিসির জরিপে মানুষকে প্রশ্ন করে দেখা যায় তাদের অর্ধেকের বেশি নিজেদেরকে বিশ্বনাগরিক ভাবে। ৫৬ শতাংশই নিজেদের বিশ্বনাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। এর মধ্যে নাইজেরিয়ার নিজেকে বিশ্বনাগরিক ভাবার প্রবণতা ৭৩ শতাংশ, চীনে ৭১, পেরুতে৭ ০ শতাংশ এবং ভারতে ৬৭ শতাংশ।
জরিপে আরও দেখা যায়, জার্মানির ৫৪ শতাংশ মানুষই সিরিয়ানদের জার্মানিতে প্রবেশাধিকার দেওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন। আবার যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের নিয়ে সরকারের নীতি কঠোর হলেও জনমতের হার ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে, স্পেনের ৮৪ শতাংশ মানুষই যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ থেকে পালিয়ে আসা ভাগ্যাহত মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে রায় দেন। উত্তর আমেরিকাতেও শরণার্থীদের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রাখেন নাগরিকরা। কানাডার ৭৭ শতাংশ মানুষ সিরিয়ান শরণার্থীদের স্থান করে দেওয়ার পক্ষে, যুক্তরাষ্ট্রে এই মতের মানুষ ৫৫ শতাংশ মাত্র। ইন্দোনেশিয়ায় জাতীয় নাগরিকত্বের ধারণা সবচেয়ে কম, মাত্র ৪ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ার মানুষের মধ্যে গোত্রের ধারণা প্রবল। গোত্রের সদস্য হিসেবেই আত্মপরিচয় দিতে স্বচ্ছন্দ তারা। সূত্র: বিবিসি
ইউআর/বিএ/







