গত বেশ কয়েক মাস ধরে ইসলামিক স্টেট (আইএস) হিট লিস্ট দেওয়া নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। আর এসব তালিকায় টার্গেট করা হচ্ছে সাধারণত অমুসলিমদের। এমনটাই উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সাইট ইন্টেলিজেন্সের নতুন প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, কিভাবে আইএস বিভিন্ন সহযোগী জঙ্গি সংঠনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করছে। সেখান থেকে ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। এরপর সাধারণ নাগরীকদের মোবাইলসহ বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছে।
সাইট অ্যানালাইসিসের পরিচালক রিটা কাৎজ বলেন, এসব তালিকা নতুন কিছু নয়। তবে আইএস-এর হ্যাকিং গ্রুপগুলো নতুন রীতি অনুসরণ করছে। সাধারণ তালিকাগুলোতে আইএস তাদের সমালোচনাকারী, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সরকার ও সামরিক ব্যক্তিবর্গকে টার্গেট করত। তবে সম্প্রতি তারা সাধারণ ব্যক্তিদেরও টার্গেট করছে। টার্গেট তালিকায় বিষয়টি নতুন হলেও নির্দেশনা পুরনো বলে মনে করছে ওয়েবসাইটটি।
২০১৪ সালে আইএস মুখপাত্র আবু মুহাম্মদ আল আদানানি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধরত দেশগুলোতে মুসলমানরা অন্য অমুসলিমদের হত্যা করতে পারবেন। সেখানে পার্থক্য করার প্রয়োজন নেই, তারা সামরিক সদস্য নাকি সাধারণ নাগরিক।’
সাইট অ্যানালাইসিস ২০১৬ সালের মার্চ মাসের ২ তারিখ থেকে মে মাসের ২ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই সমীক্ষা চালায়। প্রতিবেদনে দেখানো হয়, এ সময় আটটি হত্যা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এরআগে গত এপ্রিল মাসে ২১ তারিখ প্রকাশিত এক তালিকায় নিউইয়র্কের ৩ হাজার ৬০০ নাগরিককে টার্গেট করা হয়। অন্যদিকে মে মাসের ২ তারিখে টেক্সাসের ৫০ জন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাসহ দেড় হাজারের বেশি নাগরিককে টার্গেট করা হয়।
তবে এই হুমকি তালিকা আইএস সরাসরি প্রকাশ করছে না। তারা বিভিন্ন সহযোগী জঙ্গি সংগঠন, নেটওয়ার্ক বা ছোট ছোট দলের মাধ্যমে এসব কাজ করছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয় ইউনাইটেড সাইবার খলিফায়েত ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল আত্মপ্রকাশ করে। তারা বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনগুলোর ছাতা হিসেবে কাজ করে। সেখানে কাজ করে, বিশ্বস্ত একটি ই-সিকিউরিটি টিম। তারা বিভিন্ন আইএস সমর্থকদের টেকনিক্যাল প্রতিরক্ষার প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেন। বিভিন্ন টুইটার ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে কাজ করে ‘সন অফ খলিফায়েত আর্মি’।
‘ঘোস্ট খলিফায়েত সেকশন’ কাজ করে নিজেদের ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন বন্ধু সংগঠনগুলোর কাছে বিভিন্ন তালিকা প্রচার প্রচারণায়। তবে ঠিক কিভাবে তারা নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগ করে সে ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেনি সাইট ইন্টেলিজেন্সি। প্রতিবেদনটি তাদের ‘ডার্ক ওয়েব অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি’ সেকশনে প্রকাশ করা হয়।
/এনএস/এমএনএইচ/







