মানুষের নাকের ভেতর থেকে অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির উপকরণ খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন জার্মান বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, মানুষের নাকের ভেতরে এমন এক ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে যা দিয়ে তৈরি অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে এমআরএসএ-সহ ভয়ংকর কিছু প্যাথোজেনকে হত্যা করা সম্ভব। ওই প্যাথোজেনের কারণে মারাত্মক ও মরণঘাতী চর্ম রোগ দেখা দিতে পারে, রক্তপ্রবাহে সংক্রমণ হতে পারে এবং নিউমোনিয়া হতে পারে। আর এর চিকিৎসা বেশ কষ্টসাধ্য।
এমআরএসএ’র মতো কিছু কিছু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সুপারবাগ রয়েছে যার প্রভাব ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এসব সুপারবাগের কারণে অস্ত্রোপচারের পর প্রায়সময়ই রোগী সংক্রমণের শিকার হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে প্রাণহানিও হচ্ছে। এমন অবস্থায় যত বেশি সংখ্যক রোগের জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে বিজ্ঞানীরা তত বেশি করে নতুন নতুন উপশমের পথ খুঁজছেন।
যেসব ব্যাকটেরিয়া থেকে অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হয় তার বেশিরভাগই মাটিতে বসবাস করে। তবে এবার বিজ্ঞানীরা বলছেন মানুষের নাকের ভেতরেই আছে অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির ব্যাকটেরিয়া।
বুধবার নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জার্মান বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। নাকের ভেতরে পাওয়া উপকারী ব্যাকটেরিয়াটির নাম দেওয়া হয়েছে লুগদুনিন। বিজ্ঞানীদের দাবি, এর মধ্য দিয়ে অন্য ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। এর মধ্য দিয়ে মেথিসিলিন-রেজিস্টেন্ট এস. অরিস (এমআরএসএ) এবং ভ্যানকোমাইসিন রেজিস্টেন্ট এন্টেরোকোকাস প্রজাতির মতো অ্যান্টিবায়োটিকবিরোধী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা সম্ভব।
অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হুমকিগুলোর মধ্যে এমআরএসএ’র সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। দ্য সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের হিসেব অনুযায়ী, ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ এমআরএসএ’র সংক্রমণের শিকার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কারণে মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজারেরও বেশি মানুষের।
জার্মান বিজ্ঞানীদের দাবি, তাদের এ গবেষণা নতুন শ্রেণির অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের প্রথম দৃষ্টান্ত। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, গার্ডিয়ান
/এফইউ/বিএ/







