দ. এশীয়দের হৃদরোগ মোকাবিলায় মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিল উত্থাপন

Send
ললিত কে ঝা, যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশিত : ১৪:৪৯, জুন ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫২, জুন ০৬, ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে হৃদরোগের মাত্রা উল্লেখজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের প্রভাবশালী দুই আইনপ্রণেতার একটি দ্বিদলীয় গ্রুপ। বুধবার (৫ জুন) ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য প্রমিলা জয়াপাল ও সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জোয়ে উইলসন যৌথভাবে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এদিন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে হৃদরোগ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি বিল নতুন করে উত্থাপনও করেছেন তারা। কংগ্রেসে বিলটি পাস হয়ে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট তাতে স্বাক্ষর করলে তা আইনে পরিণত হবে।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে (যারা কিংবা যাদের পরিবার ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে গেছে) হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি চার গুণ বেশি। বয়স ৫০ বছর হওয়ার আগেই তাদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশীয়দের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়ে বিল উত্থাপন করেছেন দুই দলের দুই মার্কিন আইনপ্রণেতা।

ওই বিলে বলা হয়, মার্কিন মেডিক্যাল স্কুলগুলোতে পুষ্টি সংক্রান্ত পাঠ্যসূচির অংশে সংস্কৃতভেদে ডায়েটের ভিন্নতা থাকার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। তাছাড়া যারা এরইমধ্যে হৃদরোগে ভুগছেন, তাদের জন্য সর্বোত্তম পুষ্টি নিশ্চিত করার উপায়কেও গুরুত্ব দিতে হবে।

বিলটি আইনে পরিণত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলে দক্ষিণ এশিয়ার হার্ট হেলথ প্রমোশন গ্র্যান্ট নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এর আওতায় দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের হৃদরোগসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে একটি ওয়েব পোর্টাল তৈরি করা হবে। দক্ষিণ এশীয়দেরকে হৃদরোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সংস্কৃতিগতভাবে উপযোগী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় যারা এই বিষয়ে কাজ করে, এই প্রকল্পের আওতায় তাদের অর্থায়নও করা হবে। এই তহবিল আসবে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এর মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয়দের ওপর তারা কার্ডিওভাসকুলার রোগসহ অন্যান্য হৃদরোগের ওপর গবেষণা করবে।

কংগ্রেস সদস্য জয়াপাল বলেন, ‘দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে ‍হৃদরোগ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। এ রোগটি প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করতে গবেষণা ও বিশ্লেষণের কাজে তহবিল জোগানোর ক্ষেত্রে সহায়তা করবে আমাদের প্রস্তাবিত আইনটি। এতে অনেকগুলো জীবন বেঁচে যাবে।’

‘আমরা শুধু সুনির্দিষ্ট করে ওই কমিউনিটির মানুষদের মৃত্যু প্রতিরোধেরই চেষ্টা করব তা নয়, এর মধ্য হৃদ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির উপায় বের করব আমরা। এতে প্রত্যেক আমেরিকান নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে ও মঙ্গল হবে।’

আরেক কংগ্রেস সদস্য উইলসন বলেন, দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটিতে হৃদরোগের ধারা পাল্টে দিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। এমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, দ্য এশিয়ান প্যাসিফিক আইল্যান্ডার আমেরিকান, উম্যান হার্ট: ন্যাশনাল কোয়ালিশন ফর উম্যান উইথ হার্ট ডিজিজ, মাসালা ও আপচো (এএপিসিএইচও) এর মতো স্বাস্থ্য ফোরামগুলো বিলটিকে সমর্থন জানিয়েছে।

আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির প্রেসিডেন্ট রিচার্ড কোভাকস জানিয়েছেন, অন্য মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয়দের ক্ষেত্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যা‌ওয়ার ঝুঁকি বেশি।

/এমএইচ/এফইউ/

লাইভ

টপ