পদত্যাগ করতে পারেন মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:৪১, জুন ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৯, জুন ১৭, ২০১৯

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী কেনাট ওস্টবি পদত্যাগ করতে পারেন। রাখাইনে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে (ইন্টারন্যালি ডিসপ্লেসড পার্সনস-আইডিপি ক্যাম্প) থাকা মানুষদের মৌলিক মানবাধিকার ও চলাফেরার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারায় হতাশ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এই খবর জানিয়েছে।মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক কেনাট ওস্টবি

গার্ডিয়ানের অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকারের জাতিবিদ্বেষী নীতির কারণে ত্রাণ সহায়তা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে জাতিসংঘ। গত ৬ জুন মিয়ানমারের সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ড. উইন মিয়াত আয়ে-কে চিঠি দিয়ে জাতিসংঘের এই বার্তা জানিয়ে দিয়েছেন দেশটিতে সংস্থাটির আবাসিক সমন্বয়কারী কেনাট ওস্টবি। গার্ডিয়ানের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আইডিপি ক্যাম্প বন্ধের কাজ আন্তর্জাতিক মানে আনতে জাতিসংঘ বেশ কয়েক মাস ধরেই মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়ে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ওস্টবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও অস্বীকার করেছে মিয়ানমার সরকার। আর এসব কারণে হতাশ হয়ে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান।

গার্ডিয়ান আভাস দিয়েছে, ফিলিপাইনে বর্তমানে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি ওলা আলগ্রিন মিয়ানমারের দায়িত্ব নিতে পারেন। এদিকে গার্ডিয়ানের খবরে পদত্যাগের আশঙ্কা প্রকাশ পাওয়ার পর এক টুইট বার্তায় ওস্টবি আন্তর্জাতিক মান এবং মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আইডিপি ক্যাম্পের সমস্যার টেকসই সমাধানে নিজের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেখান থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালাতে শুরু করে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। এমন পরিস্থিতিতে ওই বছরের নভেম্বরে মিয়ানমারে জাতিসংঘ কার্যালয়ের সমন্বয়কের দায়িত্ব নেন ওস্টবি। এর আগে তিনি পূর্ব তিমুর, ফিজি, ইরান এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার নয়টি দেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কাজ করেছেন তিনি।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে জাতিসংঘ-বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তি হয়েছে। তবে  মুখে প্রত্যাবাসনের কথা বললেও মিয়ানমার শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেয়নি। একদিকে তারা বুলডোজারে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত নষ্ট করেছে, চলমান রেখেছে রোহিঙ্গাদের ভূমিতে ‘আদর্শ বৌদ্ধ গ্রাম’ নির্মাণের প্রক্রিয়া; অন্যদিকে তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ভান করে গেছে। ত্রাণ বন্ধের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে মিয়ানমারে কর্মরত জাতিসংঘের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ক্যাম্প বা তার আশেপাশে স্থায়ী বাড়িঘর নির্মাণে সরকারি পরিকল্পনায় এটা স্পষ্ট, জাতিবিদ্বেষী বিচ্ছিন্নতা স্থায়ী হবে।

 

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ