ভারতীয় হিন্দু শিক্ষার্থীকে কোরান বিলির নির্দেশ আদালতের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:১১, জুলাই ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৪, জুলাই ১৭, ২০১৯

ভারতের ঝাড়খণ্ডে হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত এক কলেজ শিক্ষার্থীকে পাঁচটি কোরান কিনে একটি ইসলামিক সংগঠনে গিয়ে তা বিলি করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের একটি আদালত। তার বিরুদ্ধে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর এই রায় দিয়েছেন বিচারক। তবে রায়ে অসন্তুষ্ট ওই শিক্ষার্থী উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আদালতের প্রতীকী ছবি
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মুসলিমদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত হেনেছে -এমন অভিযোগ পেয়ে পুলিশ রিচা প্যাটেল নামের ওই ছাত্রীকে গ্রেফতার করে। পরে জামিনের শর্ত হিসাবে কোরান বিলি করার নির্দেশ দেয় আদালত। তবে প্যাটেল বিবিসিকে বলেছেন, ‘এক ফেসবুক পোস্টের জন্য অন্য ধর্মের একটি সংগঠনে গিয়ে কোরান বিলি করার নির্দেশে আমার খুবই অস্বস্তি হচ্ছে। আদালতের নির্দেশকে সম্মান জানিয়েও বলতে বাধ্য হচ্ছি, এটাতে তো আমার মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে! আমি উচ্চতর আদালতে যাওয়ার কথা ভাবছি।"

রিচা প্যাটেলের প্রশ্ন, "ফেসবুকে আমি আমার নিজের ধর্ম নিয়ে কিছু লিখতে পারব না? এ কোথাকার নিয়ম? তার জন্য আমার মতো একজন কলেজ ছাত্রীকে গ্রেফতার করা হবে?"  তার দাবি, যে ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করার জন্য পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল, তা তিনি 'নরেন্দ্র মোদি ফ্যানস ক্লাব' নামের একটি গ্রুপ থেকে কপি করেছিলেন। ওই পোস্টে ইসলাম-বিরোধী কোনও কথাই ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

মুসলমানদের সামাজিক সংগঠন 'আঞ্জুমান ইসলামিয়া'-র প্রধান মনসুর খলিফা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তার অভিযোগ, রিচা প্যাটেলের ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপ পোস্টের ফলে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের 'অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে'। এর ফলে সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। অভিযোগ পেয়ে ১২ই জুলাই সন্ধ্যায় রিচা প্যাটেলকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ।

রিচার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিসহ নানা এলাকায় বিক্ষোভ করতে শুরু করে। ওদিকে রিচার আইনজীবীর পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন জানানো হয়। রাঁচি সিভিল আদালতে জামিনের শর্ত হিসাবে বিচারক জানান যে রিচাকে পাঁচটি কোরান কিনে আঞ্জুমান কমিটি আর গ্রন্থাগারে বিলি করতে হবে, আর সেই প্রাপ্তি স্বীকারের রসিদ আদালতে জমা দিতে হবে।

আঞ্জুমান ইসলামিয়ার প্রধান খলিফা বিবিসিকে জানিয়েছেন যে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এখনও তিনি রিচার কাছ থেকে পাঁচ কপি কোরান পাননি। তার দাবি, পুলিশের কাছে অভিযোগ করার পরে রিচা প্যাটেলের পরিবার আর সমাজের মান্যগণ্যরা তাকে অনুরোধ করেন যে মেয়েটির বয়স মাত্র ১৯ বছর, তাই ওর ভবিষ্যতের কথা ভেবে যেন বিষয়টি মিটিয়ে নেন। তারপরেই রিচা প্যাটেলের জামিনের আর বিরোধিতা করেননি তিনি।

 

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ