মিয়ানমারে সেনা-বিদ্রোহী সংঘর্ষে এক সপ্তাহে নিহত ১৯, বাস্তুচ্যুত দুই সহস্রাধিক

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:৩৫, আগস্ট ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৮, আগস্ট ২১, ২০১৯

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে জাতিগত সংখ্যালঘু বিদ্রোহীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে গত এক সপ্তাহে ১৯ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ২ হাজারেরও বেশি মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বুধবার সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত ২০ নভেম্বর চীন সংলগ্ন মিয়ানমার সীমান্তে কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সেনা ও পুলিশ চৌকিতে হামলা করার পর শান রাজ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার জাতিগোষ্ঠীগুলোর সশস্ত্র সংগঠন কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (আরাকান আর্মি), তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি এবং ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মির সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ হয়।

গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান প্রদেশে সেনাবাহিনীর একটি কলেজসহ পাঁচটি স্থানে হামলা চালায় স্থানীয় তিনটি বিদ্রোহী সংগঠনের জোট নর্দান অ্যালায়েন্স। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়। এদের অধিকাংশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এই হামলার পর থেকে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ জাতিগত সংঘাতের কারণে হাজার হাজার মানুষ ঘরহারা হচ্ছে।

সহায়তা কর্মীরা বলছেন, সংঘর্ষের ফলে উদ্বাস্তু হওয়া মানুষেরা মিয়ানমানের শান রাজ্যের উত্তরের লাসিও শহরের বিহারগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। তারা সরকার ও দাতা গোষ্ঠীর সহায়তার ওপর নির্ভর করছে।

শান রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক শো নায়েং বলেন, ‘আমরা শিবিরগুলোতে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নগদ অর্থের পাশাপাশি মৌলিক উদ্ধার উপকরণ সরবরাহ করছি। এ শিবিরগুলোতে থাকে নিহতদের পরিবার ও আহতরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন মানুষের শিবিরে থাকার প্রয়োজন, ততদিন তাদের সহায়তা দেওয়া হবে।’

২০১৬ সালে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে ক্ষমতায় আসে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার।  জাতিগত সংখ্যালঘু বিদ্রোহী গোষ্ঠী, সামরিক ও বেসামরিক সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন তিনি। তবে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইনের পশ্চিমাঞ্চল, শান রাজ্য ও উত্তরের কাচিন রাজ্যে জাতিসংগ সংঘাত বেড়েই চলেছে। সু চিও তার ভূমিকার জন্য বিশ্বজুড়ে নিন্দিত হয়েছেন। হারিয়েছেন বিভিন্ন পদক আর সম্মাননা।

/এইচকে/বিএ/

লাইভ

টপ