ভারত কোনও ধর্মশালা নয়: আসামের মন্ত্রী

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২:৪২, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৮, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯

আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় ১৯ লাখেরও বেশি স্থানীয় লোকজন রাষ্ট্রহীন মানুষে পরিণত হওয়ার ঘটনায় ভারতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মুসলমানদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিতেই এ তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। তবে তালিকায় আরও বেশি সংখ্যক মুসলমানদের নাম বাদ না পড়ায় প্রকাশ্যেই ক্ষোভ জানিয়েছেন বিজেপি নেতারা। একইসঙ্গে হিন্দু শরণার্থীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বলেছেন, বিজেপি তাদের সঙ্গে রয়েছে এবং তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ভারতের নাগরিকত্ব কী তাহলে ধর্মের ভিত্তিতে নির্ধারিত হচ্ছে? তবে আসামের অর্থমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মনে করেন, ভারত কোনও ধর্মশালা নয় নয় যে, এখানে সব ধর্মের শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া হবে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সংখ্যালঘুরা নিপীড়িত বলেও দাবি করেন আসামের এই মন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে, ধর্মের কারণে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হিন্দু অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া সাম্প্রদায়িক, তবে আমি জানি না যে, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা কী?’ তাহলে কি ধর্ম নির্বিশেষে সব শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া উচিৎ? এই প্রশ্নে তার সাফ বক্তব্য, ভারত কোনও ধর্মশালা নয়।

শনিবার প্রকাশিত আসের নাগরিক তালিকাকেও ত্রুটিপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছেন এই বিজেপি নেতা। জানিয়েছেন, তার দল আবারও রাজ্যের কয়েকটি অংশে তালিকা পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করবে।

আসামের অর্থমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ভাষায়, ‘বিজেপি এনআরসিকে সমর্থন করে। তবে আমাদের মনে হয়েছে যে, কিছু নির্দিষ্ট সমস্যা রয়েছে যা আগে দেখা উচিৎ ছিল। কেন্দ্র এবং আসাম সরকার সুপ্রিম কোর্টকে অনুরোধ করেছে যে, আসামের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বাদ পড়াদের ২০ শতাংশ  এবং অন্য অংশে ১০ শতাংশকে পুনর্বিবেচনার অনুমতি দেওয়া হোক।’

এই নাগরিক তালিকার ঘোষিত লক্ষ্য ছিল কয়েক দশক ধরে আসামে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা। তবে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, হিন্দু অভিবাসীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিৎ হয়নি। তার ভাষায়, ‘হিন্দু অভিবাসীদের একটি সামান্য অংশ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাদের নিজস্ব শরণার্থী প্রশংসাপত্র ছিল, তবে তা বিবেচনায় গৃহীত হয়নি। যাই হোক, বিজেপি পরবর্তী পার্লামেন্ট অধিবেশনে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া) পাস করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে অমুসলিম অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরিক হওয়ার পথ আরও সহজ করতেই এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনতে যাচ্ছে বিজেপি। তবে এ বিলকে ‘সাম্প্রদায়িক' ও ‘বৈষম্যমূলক' হিসেবে বিবেচনা করছেন সমাজকর্মী ও বিরোধী রাজনীতিকরা।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আমরা ভোট ব্যাংকের রাজনীতি করছি না। ভোট ইতোমধ্যেই নরেন্দ্র মোদির পক্ষে রয়েছে। এর জন্য আমাদের এমন রাজনীতি খেলতে হবে না। এনআরসি হোক বা না হোক, জনগণ নরেন্দ্র মোদিকেই ভোট দেবে। সূত্র: এনডিটিভি।

/এমপি/

লাইভ

টপ