ইরানি জাহাজের ক্যাপ্টেনকে কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র!

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:৪৬, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫২, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯

পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চরম বিরোধের মধ্যে তেহরানের একটি তেলবাহী ট্যাংকারের ক্যাপ্টেনকে কোটি টাকা (কয়েক মিলিয়ন ডলার) দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই ট্যাংকারটিকে আটকে যুক্তরাষ্ট্রকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এই প্রস্তাব দেয় তারা। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির বার্তাসংস্থা এপি।

চলতি বছরের ৪ জুলাই যুক্তরাজ্য নিয়ন্ত্রিত জিব্রাল্টার প্রণালী থেকে ইরানি তেলবাহী সুপার ট্যাংকার গ্রেস-ওয়ান জব্দ করে ব্রিটিশ মেরিন সেনারা। জব্দ করার পর থেকে ইরান ও ব্রিটেনের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দেয়। নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে সিরিয়ায় যাচ্ছে না নিশ্চিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও জিব্রাল্টারের সুপ্রিম কোর্টের শুনানি শেষে তেল ট্যাংকারটি মুক্তি দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে এটাকে জব্দ করতে পরওয়ানা জারি ও কালোতালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত হতে এটার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় আদরিয়ন দরিয়া-ওয়ান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইরান বিষয়ক কর্মকর্তা ব্রায়ান হুক এমন প্রস্তাব দিয়ে ২৬ আগস্ট ইরানি জাহাজের ভারতীয় ক্যাপ্টেন অখিলেশ কুমারকে একটি ইমেল করেছিলেন। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, শুধু কুমার নয়, ইরানি অনেক জাহাজের ক্যাপ্টেনকেই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের একটি তেলের জাহাজের ভারতীয় ক্যাপ্টেন অখিলেশ কুমারকে কয়েক মিলিয়ন ডলার দেওয়া প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। বিনিময়ে কুমারকে জাহাজটি এমন দেশে বা জলসীমায় নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল যেখানে জাহাজটিকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করতে পারবে।  এ জন্য তাকে কয়েক মিলিয়ন দেওয়ার প্রস্তাব দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে আদরিয়ান দরিয়া-ওয়ানের ক্যাপ্টেন অখিলেশ কুমার মার্কিন প্রস্তাব গ্রহণ না করায় তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। কুমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে এই ইমেল পাঠানো হয়।

হুক বলেন, অবৈধ তেল রফতানি চিহ্নিত ও বাধা দিতে মেরিটাইম গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফ্রান্সের বার্তাসংস্থা এএফপিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘আমরা শুধু কয়েকটি জাহাজের ক্যাপ্টেনকে নয়, অনেক শিপিং কোম্পানিকেও ওই প্রস্তাব দিয়েছি।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাবেদ জারিফ ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের খবরটি টুইট করেছেন। তিনি বিষয়টিকে ‘পুরোপুরি ব্ল্যাকমেইল' বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা সরাসরি ঘুষ।’

গত শুক্রবার ওই ইরানি তেল ট্যাংকারটিকে কালোতালিকাভুক্ত করে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, ওই জাহাজটি ২ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বহনে ব্যবহৃত হয়। যার সুবিধা ভোগ করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এটা ইরানের সেনাবাহিনীর অভিজাত ও বিশেষায়িত বাহিনী। সম্প্রতি এই বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

/এইচকে/এএ/

লাইভ

টপ