ইসলামিক জিহাদ নেতা হত্যার জের, গাজায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন তীব্র লড়াই

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০২:০০, নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:০৫, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

নতুন করে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন জোরালো করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গ্রুপ ইসলামিক জিহাদ নেতা আবু আল আতাকে হত্যার পরও গাজা উপত্যকার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমান ও সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার দিনভর এই আগ্রাসনে অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত ও ৩০ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে গাজা কর্তৃপক্ষ। এর জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে গাজা উপত্যকা থেকে ছোড়া হয়েছে দেড় শতাধিক রকেট। এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তার দেশ দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আর গাজার স্বাধীনতাকামী গ্রুপগুলোর এক যৌথ বিবৃতিতে পরিণামের বিষয়ে তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।ইসরায়েলি বিমান হামলার পর গাজা সীমান্তের এক ফিলিস্তিনি বাড়ি থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও সিরিয়ায় সোমবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজায় হামলা চালিয়ে সেখানকার সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী সংগঠন ইসলামিক জিহাদের অন্যতম শীর্ষ নেতা আবু আল আতা (৪২) ও তার স্ত্রীকে হত্যা করে দখলদার বাহিনী। অন্যদিকে সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে  হত্যা করা হয় তাদের ছেলেকেও। এই আগ্রাসনের জবাবে মঙ্গলবার ভোর থেকে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া শুরু হয়। পরে দেশটির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়।   

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলছে, গাজা উপত্যকায় ইসলামিক জিহাদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান ও স্থল হামলা জোরালো করা হয়েছে। তাদের দাবি গোষ্ঠীটির ব্যবহৃত টানেল, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অস্ত্র কারখানা ও মজুদ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। গাজার উত্তরাঞ্চলে এক বিমান হামলায় তিন ফিলিস্তিনিকে হত্যার কথা জানিয়েছে তারা। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি গাজা উপত্যকা থেকে তাদের সীমানায় দেড় শতাধিক রকেট ছোড়া হয়েছে। এতে এক নাগরিক আহত হয়েছে।

তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিনভর ইসরায়েলি হামলায় ইসলামিক জিহাদ নেতা ও তার স্ত্রীসহ অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৩০ জন। এর মধ্যে গাজার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় এক বিমান হামলায় দুই ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে।

এদিকে গাজার ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলোর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সব সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে আর তাদের পরিণাম ভোগ করতে হবে। দেশটি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে দাবি করেছেন ইসলামিক জিহাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খালেদ আল বাতশ। আবু আল আতার জানাজার সময়ে তিনি ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই নেতার মৃত্যুর প্রতিশোধ এমনভাবে নেওয়া হবে যাতে জায়নবাদি রাষ্ট্রটি কেঁপে উঠবে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তার দেশ উত্তেজনা চায় না। তবে দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি রয়েছে। তেল আবিবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যারা আমাদের নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করবে তারা ভুল করবে। আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি সন্ত্রাসীদের আস্তানা যেখানে হোক আমরা সেখানে হামলা চালাতে পারি। যারা আমাদের ক্ষতি করবে আমরাও তাদের জবাব দেব।

প্রসঙ্গত,ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধভাবে নির্মিত বসতিতে লাখ লাখ ইসরায়েলি বসবাস করে। তারপরও দখলদারিত্ব সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনতার প্রতিরোধকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করে তেল আবিব।

 

/জেজে/

লাইভ

টপ