সবরিমালা বিতর্ক এবার সুপ্রিম কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:০০, নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০২, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

কেরালার সবরিমালা মন্দিরে অল্প বয়সী (ঋতুবতী) নারীদের প্রবেশ করতে দেওয়ার রায় পর্যালোচনা করতে সম্মত হয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। গত বছর আদালতের দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ে নারীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এই রায় চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হয় বেশ কয়েকটি রিভিউ পিটিশন। বৃহস্পতিবার এসব পিটিশনের জবাবে পাঁচ সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ জানিয়েছে, বিষয়টি এখন একটি বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানি হবে। তবে আগের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। ফলে এখনও ওই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন নারীরা।

কেরালার পাহাড়ের ওপর অবস্থিত সবরিমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত নারীরা প্রবেশ করতে পারতেন না। মূলত ঋতু চলাকালীন নারীদের মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি ছিল না। হিন্দু ধর্মানুযায়ী এই সময়ে নারীদেরকে অপরিচ্ছন্ন বিবেচনা করা হয়।

গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নারীদের প্রবেশাধিকারের এই বয়সসীমা ‍তুলে নেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হয় কেরালায়। প্রবেশ করতে চাওয়া নারীদের কাউকে হয় ফেরত পাঠানো হয়, আবার কাউকে আঘাতও করা হয়। ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির কেরালা শাখার পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন না করার জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রবল প্রতিরোধের মধ্যেও মন্দির দর্শন করেন ৫১ জন নারী।

বৃহস্পতিবার দেওয়া আদেশে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, সবরিমালা মন্দিরে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্কটি এখন বড় আকার নিয়েছে। সব বয়সী নারীদের মন্দিরে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক ছিলই। একইসঙ্গে মুসলিম ও পার্সি মহিলাদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে কিনা, তা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিতর্কে সব পক্ষেরই কথা শোনা উচিত।

বিষয়টি এতদিন পাঁচ সদস্যের একটি বেঞ্চ ওই আবেদন শুনছিল। বৃহস্পতিবার আদেশের পর এবার সাত বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত সাংবিধানিক বেঞ্চ আবেদনগুলি বিবেচনা করবে। 

সুপ্রিম কোর্ট ওই রায় পর্যালোচনার আদেশ দিলে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন মন্দিরটির এক কর্মকর্তা। সুপ্রিম কোর্ট আগের রায় স্থগিত না করায় এখনও আইনগতভাবে নারীরা মন্দিরে প্রবেশের সুযোগ পেলেও তাদের দূরে থাকারই আহ্বান জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

রায়ের পর স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কেরালা পুলিশ। আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে নজরদারির মাধ্যমে ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়ানোকারীদের গ্রেফতার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের রায়ের ফলে নারী অধিকারকর্মীরা ব্যাপক হতাশ হবে বলে মনে করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এই পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত ‘এক ধাপ এগিয়ে দুই ধাপ’ পিছিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা।

 

/জেজে/এএ/

লাইভ

টপ