ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ১০৬: অ্যামনেস্টি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০২:৫৯, নভেম্বর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০১, নভেম্বর ২০, ২০১৯

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ইরানে গত সপ্তাহের বিক্ষোভে ১০৬ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীদের জমায়েতে ভবনের ছাদ থেকে স্নাইপাররা গুলি চালিয়েছে, একটি ঘটনায় হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।

১৫ নভেম্বর ইরানি কর্তৃপক্ষ সরকারি রেশনে দেওয়া পেট্রোলের দাম ৫০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিলে সেদিন থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত দুই জন নিহত হয়। রাস্তা অবরোধ ছাড়াও বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। রবিবার (১৭ নভেম্বর) বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ইরানের আধা সরকারি ফার্স নিউজ তিন দিনের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ১২ জন বলে দাবি করেছে। 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ২১টি শহরে বিক্ষোভের সময় অন্তত ১০৬ জন নিহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিশ্বাসযোগ্য খবর, নিশ্চিত হওয়া ভিডিও এবং মানবাধিকারকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই দাবি জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক সংস্থাটি। তাদের দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কিছু কিছু খবরে নিহতের সংখ্যা ২০০ জনের মতো।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই নিহতের সংখ্যা প্রমাণ করে ইরানের নিরাপত্তাবাহিনীর বেআইনি হত্যার প্রবণতা। তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অত্যাধিক ও প্রাণঘাতী শক্তিপ্রয়োগ করেছে।

মানবাধিকার সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাবাহিনী নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি এবং কোনও স্বতন্ত্র ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত দাফন করতে বাধ্য করা হয়েছে।

সোমবার ইরানের সরকারি মুখপাত্র আলি রাইবেই দাবি করেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কেবলমাত্র ছোটখাটো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে আর আগামীকাল বা তার পরের দিন কোনও দাঙ্গা থাকবে না’। কয়েকটি শহর ও প্রদেশে জমায়েত থাকলেও আগের দিনের তুলনায় তা ৮০ শতাংশ কমে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, সোমবার রাতেও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ চলছিল এবং রাজপথে নিরাপত্তাবাহিনী বিরাজ করছে। এসব ভিডিওর সত্যতা রয়টার্সের পক্ষ থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিক্ষোভে ইরানি নাগরিকদের প্রাণহানির কথা স্বীকার করলেও ‘অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের অপচেষ্টা’ চালানোর জন্য অভ্যন্তরীণ বিরোধী শক্তি ও ‘বিদেশি শত্রুদের’ দায়ী করেন তিনি। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাবি, এসব গোষ্ঠী ইরানকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

/এএ/

লাইভ

টপ