সরকার গঠনে ব্যর্থ গান্টজ, আবারও নির্বাচনের পথে ইসরায়েল

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০০:০৪, নভেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:১১, নভেম্বর ২১, ২০১৯

ইসরায়েলে সরকার গঠনে ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টিকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যানের দল। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ৮টি আসনে জয়ী ‘ইসরায়েল বেইনেতু পার্টি’র ওই নেতা এই অস্বীকৃতি জানান। গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পর জোট সরকার গঠন করতেও ব্যর্থ হলেন সাবেক সেনাপ্রধান বেনি গান্টজ। সরকার গঠন করতে তার হাতে ২৮ দিন সময় ছিলো। বুধবার (২০ নভেম্বর) মধ্যরাতে তা শেষ হয়। এর আগে সরকার গঠনেও ব্যর্থ হয়েছেন এক দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ইহুদিবাদী লিকুদ পার্টি ৩২টি আসনে জয় পায়। আর সাবেক সেনাপ্রধান বেনি গান্টজ-এর নেতৃত্বাধীন মধ্য বামপন্থী ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টি পায় ৩৩ আসন। ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্টে সরকার গঠন করতে অন্তত ৬১ আসন পাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় প্রেসিডেন্ট রুভেন রিভলিন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে জোট সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। জোট সরকার গঠন করতে গান্টজের ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন নেতানিয়াহু। এরপর গান্টজকে নতুন জোট গড়তে ২৮ দিন সময় বেধে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট রুভেন রিভলিন। ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টিকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো ইসরায়েলি আরব আইনপ্রণেতারা। তবে তা সত্ত্বেও এখনও সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১টি আসন পূর্ণ করতে ১২টিরও বেশি আসন কম পড়ছে তাদের। আর এতে গান্টজকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃত জানায় ৮টি আসন পাওয়া ইসরায়েল বেইনেতু পার্টি। এ কারণে নতুন করে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পরও রাষ্ট্রপতি রিভলিনের প্রস্তাবিত জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়েছে ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট এবং লিকুদ পার্টি। ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধে দুই পক্ষের মধ্যকার আলোচনা সফল হয়নি।

অ্যাভিগডর লিবারম্যান বুধবার বলেছেন, ‘ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট এবং লিকুদ পার্টি একমত হতে না পারায় তারা দুইজনই (নেতানিয়াহু ও গ্যান্টজ) দোষী।’ আর ঐক্যের সরকারের কোনও লক্ষণ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখন যেমন দাঁড়িয়েছে, আমরা অন্য নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।’

ইসরায়েলে সেপ্টেম্বরের নির্বাচন ছিল গত পাঁচ মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত দেশটির দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচন। গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনও পক্ষ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ কিংবা জোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন নির্বাচনের আয়োজন করতে হয়। ইসরায়েলের ইতিহাসে এই প্রথম একই বছরে দুইটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘটনা ঘটলো। এখন তৃতীয় দফা নির্বাচনে পথে হাঁটছে ইসরায়েল।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সাল থেকে ইসরায়েলের ক্ষমতায় রয়েছেন নেতানিয়াহু। এবারের নির্বাচনকে তার জন্য জনগণের গণভোট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। তার বিরুদ্ধে তিনটি দুর্নীতির মামলা রয়েছে। তবে নির্বাচনের মাঠে দুর্নীতির অভিযোগ আড়াল করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে সরব থেকেছেন তিনি।

/এইচকে/

লাইভ

টপ