তিন ইউরোপীয় শক্তির চিঠি প্রত্যাখ্যান ইরানের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৬:০০, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০২, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। দেশটি পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন করছে বলে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি যে অভিযোগ করেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। জাতিসংঘ মহাসচিবকে লেখা এক চিঠিতে এই অভিযোগ করে ইউরোপীয় দেশ তিনটি। এটিকে ভয়াবহ মিথ্যাচার দাবি করে তেহরান বলছে, পরমাণু চুক্তির ন্যূনতম শর্ত পূরণে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই এমন অবস্থান নিয়েছে ওই দেশগুলো। নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে পরমাণু তৎপরতার কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছে ইরান।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে চিঠি দিয়ে ইরানের পরমাণু তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক করে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। জাতিসংঘে নিযুক্ত দেশ তিনটির রাষ্ট্রদূতের যৌথ ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে পরমাণু তৎপরতা চালাচ্ছে তেহরান। গুতেরেসের পরবর্তী প্রতিবেদনে নিরাপত্তা পরিষদকে এই বিষয়ে জানানোর আহ্বান জানায় তারা।

ইউরোপীয় দেশ তিনটির ওই চিঠি ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় ইরানের কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, তেহরান আত্মরক্ষার প্রয়োজনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে গেলেও এর সঙ্গে পরমাণু তৎপরতার সংশ্লিষ্টতা নেই। অবশ্য আগে থেকে একই দাবি করে আসছে ইরান।

বৃহস্পতিবার অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে লেখা চিঠিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের দূত মাজিদ তাখতে বলেন, ‘ইরান দৃঢ়ভাবে নিজেদের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশযান সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফও তিন ইউরোপীয় দেশের চিঠির সমালোচনা করেন। ওই চিঠিকে ভয়াবহ মিথ্যাচার দাবি করে টুইট বার্তায় তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন ওই তিনটি দেশই পারমাণবিক চুক্তির শর্ত মানছে না। তিনি বলেন, পরমাণু চুক্তির ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে জাতিসংঘে ভয়াবহ মিথ্যাচার করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। 

২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন (পি-ফাইভ) ও জার্মানি (ওয়ান) পরমাণু চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান। ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে ২০১৮ সালের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর ওই বছরের নভেম্বর থেকে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল শুরু করে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এ সমঝোতা বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে ইরান।

ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে দেশটিকে নতুন পরমাণু চুক্তিতে বাধ্য করাতে চায় ওয়াশিংটন। তবে ইরান ওই চাপের কাছে নত শিকার করবে না দাবি করে আসছে। বৃহস্পতিবার টুইট বার্তায় ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের তর্জনের কাছে নত শিকার না করতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতি আহ্বান জানান।

/জেজে/

লাইভ

টপ