শরীরে আগুন নিয়েই এক কিলোমিটার ছুটেছিলেন ধর্ষণের শিকার নারী

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৭:৪৩, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৭, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

ধর্ষণ মামলার শুনানিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হওয়া ভারতীয় নারীকে শরীরে আগুন নিয়েই প্রায় এক কিলোমিটার পথ দৌড়াতে হয়েছে। আদালতে যাওয়ার পথে তার শরীরে আগুন দেওয়া হয়। উত্তরপ্রদেশের উন্নাও-এর ওই নারীর পোড়া শরীর দেখে কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। পরে এক গোডাউন পাহারাদারের কাছে সাহায্যের আকুতি জানিয়ে সাড়া পান তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের কাছে এভাবেই তাকে উদ্ধারের বর্ণনা দিয়েছেন সেই পাহারাদার। 

ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার ওই নারী গত মার্চে নিজ গ্রামের দুই পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার শুনানিতে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। পথে গৌরা রেল ক্রসিংয়ের কাছে হামলার মুখে পড়েন। পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই নারী জানিয়েছেন, পাঁচ ব্যক্তি তার পথরোধ করে প্রথমে মাথায় আঘাত করে। পরে ছুরি দিয়ে ঘাড়ে আঘাতের পর পড়ে গেলে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ওই অবস্থাতে সাহায্যের জন্য ছুটতে শুরু করলে গ্রামবাসীরা তার পোড়া শরীর দেখে ভয় পেতে শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দৌড়ানোর পর একটি গ্যাস গোডাউনের সামনে এসে সেখানকার পাহারাদার রবিন্দ্র প্রকাশ সিং এর দেখা পান তিনি। প্রথমে তাকে দেখে ডাইনি বলে ভেবেছিলেন বলে জানান রবিন্দ্র।

রবিন্দ্র প্রকাশ সিং বলেন, ‘আমি গবাদি পশুর জন্য খাবার তৈরি করছিলাম তখন রাস্তার দিক থেকে আবছা গোঙ্গানি শুনতে পাই। কাছে আসলে তাকে ডাইনি ভেবে আমি ভয়ে কাঁপতে থাকি’। ওই নারী তাকে এগিয়ে এসে সাহায্যের আকুতি জানায়। তিনি বলেন, ‘একহাতে ছোট একটা পার্স আর এক হাতে সেল ফোন নিয়ে তিনি বারবার বলতে থাকেন আমাকে বাঁচান, সাহায্য করুন। ওরা আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল, সাহায্য করুন’। পরে তিনি নিজের বাবার নাম বলেন বলে জানান রবিন্দ্র।

আক্রান্ত নারীর শরীরে তখনও আগুন দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়ে রবিন্দ্র প্রকাশ সিং বলেন, আগুন নিভিয়ে আমি সাহায্যের জন্য তখনই রাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগকে খবর দেই। ওই নারীর সাহায্যের আকুতি শুনে বের হয়ে আসেন রবিন্দ্র প্রকাশের স্ত্রী সীতা দেবী। তিনি বলেন, ‘তার অবস্থা দেখে আমি অসাড় হয়ে যাই। সাহায্যের আকুতি ছাড়া তার কাছ থেকে আর কিছু শুনতে পারিনি’।

উন্নাওয়ের পুলিশ সুপার বিক্রান্ত বীর জানিয়েছেন, আক্রান্ত ওই নারী পাঁচ হামলাকারীর নাম প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ওই নারীকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিও রয়েছে বলে জানান তিনি।

মার্চে ধর্ষণের মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে ওই অভিযুক্ত জামিনে ছাড়া পায়। অপরজন পলাতক থাকা অবস্থায় উচ্চ আদালতে জামিনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তার সম্পত্তি জব্দের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: আদালতে যাওয়ার পথে ধর্ষণের শিকার নারীর গায়ে আগুন




/জেজে/বিএ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ