ইয়েমেন যুদ্ধের কোনও সামরিক সমাধান নেই: সুদানের প্রধানমন্ত্রী

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:৫২, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০২, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হয়ে ২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে সুদান। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের সরকার ওই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদোক বলেছেন, ওই যুদ্ধের কোনও সামরিক সমাধান নেই, কেবল রাজনৈতিক সমাধানের মধ্য দিয়ে ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এসব কথা বলেছেন তিনি।সৌদি জোটের হয়ে ইয়েমেনে সেনা মোতায়েন রেখেছে সুদান

২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী দখলে নেয় ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি রাজধানী রিয়াদে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন হাদি। হুথিদের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর দেশটির হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। এই যুদ্ধকে বিশ্বের ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ।

সৌদি জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরুর পর কয়েক দশকের ইরান সমর্থনের বৈদেশিক নীতিতে পরিবর্তন আনে সুদান। সৌদি জোটে যোগ দিয়ে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির ইয়েমেনে সেনা মোতায়েন করেন। ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে গত এপ্রিলে তার ৩০ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

আগস্টে সুদানে বেসামরিক সরকার গঠিত হলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন আবদাল্লাহ হামদোক। এমাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান তিনি। এই সফরে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় আবদাল্লাহ হামদোক বলেন, ইয়েমেন সংকট আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। আমার বিশ্বাস ইয়েমেন যুদ্ধের কোনও সামরিক সমাধান নেই, কেবলমাত্র রাজনৈতিক উপায়ে এর সমাধান হতে পারে।

সুদানের বেসামরিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইয়েমেন থেকে দশ হাজার সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান আবদাল্লাহ হামদোক। দেশটিতে আর মাত্র পাঁচ হাজার সুদানি সেনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আমরা ইয়েমেনি ভাইবোনদের সহায়তা করা অব্যাহত রাখবো।

আগস্টে দায়িত্ব নিয়ে বেশ কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষি সংস্কার ও শান্তি উদ্যোগ নিয়েছে আবদাল্লাহ হামদোকের সরকার। ১৯৮৫ সালের পর সুদানের প্রথম নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন তিনি। এই সফরের মাধ্যমে গত বুধবার দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বহালে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সুদানকে সন্ত্রাসে মদদ দানকারী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছিল ওয়াশিংটন।

/জেজে/এএ/

লাইভ

টপ